গত ২০ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এশিয়ার বিমা ও আর্থিক সেবা খাতে একাধিক নীতিগত উদ্যোগ, ঝুঁকি ভাগাভাগি কাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর অংশীদারিত্বের ঘোষণা এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা, সামুদ্রিক বাণিজ্যে ঝুঁকি হ্রাস এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ব্যবস্থাপনায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে সংঘটিত সাইক্লোন ‘দিতওয়া’-এর প্রভাবের পর দেশটির বিমা কাভারেজ সম্প্রসারণে একটি জাতীয় রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্স্যুরেন্স রেগুলেটরি কমিশন অব শ্রীলঙ্কা (আইআরসিএসএল) জানিয়েছে, ওই ঘূর্ণিঝড়ে আনুমানিক ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা ২০২৪ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। এই ক্ষয়ক্ষতি দেশের বিমা সুরক্ষার ঘাটতিকে স্পষ্টভাবে সামনে আনে, যার প্রেক্ষিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা কাভারেজ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
ফিলিপাইনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বাজারে ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা ও বিমা (বিএফএসআই) খাতকে সবচেয়ে বড় রাজস্ব অবদানকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্লোবালডাটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট আয় এর প্রায় ১৪ শতাংশ আসবে এই খাত থেকে। একই সময়ে দেশটির সামগ্রিক প্রযুক্তি বাজারের আকার ২০২৪ সালের ২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৯ সালে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারত সরকার সামুদ্রিক খাতে ঝুঁকি কমাতে একটি দেশীয় বিমা পুল গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। ‘ভারত মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স পুল’ নামে এই উদ্যোগে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১২৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন রুপি) সমপরিমাণ সার্বভৌম গ্যারান্টি প্রদান করা হবে। এই পুলের আওতায় জাহাজের কাঠামো ও যন্ত্রপাতি (হাল অ্যান্ড মেশিনারি), কার্গো, প্রোটেকশন অ্যান্ড ইন্ডেমনিটি (পি অ্যান্ড আই) এবং যুদ্ধঝুঁকি সংক্রান্ত বিমা কাভারেজ প্রদান করা হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকে দেশের শিপিং খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিঙ্গাপুরে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বিমা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, বড় প্রতিষ্ঠানের ৪২ শতাংশ এ ধরনের ব্যয়ের উচ্চ ঝুঁকির কথা জানিয়েছে, যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের (এসএমই) ক্ষেত্রে এই হার ১৭ শতাংশ। সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের পরিচালিত ওই জরিপে আরও জানা যায়, প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুইটি কোনো না কোনোভাবে এই সংঘাতের প্রভাবে পড়েছে।
অন্যদিকে, ইনশিউরটেক খাতে একাধিক অংশীদারিত্ব ও নিয়োগের ঘোষণা এসেছে। কভার জিনিয়াস নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক বিমা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টংচেং ট্রাভেলের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য ভ্রমণ বিমা চালু করেছে। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে নতুন সেবা চালু করা হয়েছে।
একই সময়ে, বোল্টটেক জাপান শাখার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কোহেই ওয়াতানাবে-কে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি জাপান ও যুক্তরাজ্যে টোকিও মেরিন গ্রুপে প্রায় দুই দশক বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে টোকিও মেরিন কিলনে দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সর্বশেষ তিনি টোকিওতে কর্পোরেট আন্ডাররাইটিংয়ের পণ্য পরিকল্পনা কার্যক্রম তদারকি করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, এশিয়ার বিমা খাতে সাম্প্রতিক এসব উদ্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, কাভারেজ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা উন্নয়নের দিকে একটি ধারাবাহিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।