খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে সারা দেশে ২৬ হাজার ৯২৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার ১.৫৬ শতাংশ। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে কোনো পরীক্ষক বহিষ্কৃত হননি।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোলরুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৭৩৮ জন পরীক্ষার্থী। এসব বোর্ডে বহিষ্কৃত হয়েছে ১০ জন পরীক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি তিন হাজার ৪৯৬ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল ঢাকা বোর্ডে।
এ ছাড়া রাজশাহীতে এক হাজার ৬২২, কুমিল্লায় দুই হাজার ৫৫৩, যশোরে এক হাজার ৮০০, চট্টগ্রামে এক হাজার ১৭৩, সিলেটে এক হাজার ১৭৩, বরিশালে এক হাজার ৩৩, দিনাজপুরে এক হাজার ৩৪১, ময়মনসিংহে ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল ৯ হাজার ৬২৩ জন। এ বোর্ডের আওতায় ১০ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারিগরি বোর্ডে অনুপস্থিত ছিল দুই হাজার ৫৬৭ জন। এ বোর্ডে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়।
প্রশ্ন ফাঁস রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—শিক্ষা উপদেষ্টা : গতকাল সকালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অতীতে যেসব সূত্র থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, আমরা চেষ্টা করেছি সেখান থেকে যেন না হতে পারে। সুতরাং এখন পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।’ শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ায়। তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, এমন কাজ করবেন না।’
সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষা দিতে পারেনি : চট্টগ্রাম নগরীর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাতজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন অংশ নিতে পারেনি। গতকাল সকালে নির্ধারিত কেন্দ্র বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুল ও কলেজে উপস্থিত হলেও শ্রুতিলেখক না থাকায় পরীক্ষা দিতে পারেনি তারা।
প্রবেশপত্র নিয়ে শিক্ষকদের জালিয়াতি : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বজনরা জানায়, গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে তারা সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখে গেটে তালা। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে তারা। পরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
কিশোরগঞ্জের কয়ারখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে ১০ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। নরসিংদী ডিজিটাল গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের জালিয়াতির কারণে ছয় শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেনি। এ ছাড়া রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে দেরিতে প্রশ্নপত্র দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
খবরওয়ালা/এমইউ