খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ সনদের বাস্তবায়নকেই অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছে গণসংহতি আন্দোলন।
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান (রুবেল) বলেন, ঐকমত্য কমিশনের কিছু সুপারিশ কমিশনের বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তুর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কিছু সুপারিশ গণতান্ত্রিক রীতি ও পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব প্রস্তাব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, যা জুলাই সনদের বাস্তবায়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তাঁরা আরও বলেন, শুধুমাত্র গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন কিংবা ভিন্নমতের সমাধানের বিষয়ে কোনো ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। এই ধরনের একতরফা প্রক্রিয়া জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে দুই নেতা জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে ভিন্নমতের বিষয়গুলো স্বীকার করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে এসব ভিন্নমত নিরসনের উপায় হিসেবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে বিষয়গুলো উল্লেখ করে জনগণের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্তও ছিল। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভিন্নমত সমাধানের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। যেসব বিষয়ে মাসের পর মাস রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পায়নি, সেসব বিষয়ে পর্যাপ্ত বোঝাপড়া ছাড়াই গণভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়।
দুই নেতা বলেন, “ভিন্নমত চাপিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং রাজনৈতিক অনৈক্য আরও বাড়াবে।” তাঁরা সতর্ক করে বলেন, নির্বাচিত সংসদের ক্ষমতা হ্রাস করে যদি অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশে সংবিধান সংস্কার করা হয়, তবে সেটি স্থায়ী কোনো সমাধান হবে না; বরং সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামের একটি ‘রাবার স্ট্যাম্প’ কাঠামোয় পরিণত হবে।
গণসংহতির দুই নেতা আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো জনগণের অনুমোদন গ্রহণ। আমরা শুরু থেকেই বলেছি, আগামী সংসদকে সংবিধান সংস্কারের ক্ষমতা দিতে হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশন এ প্রস্তাবকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ার যথেষ্ট সুযোগও তৈরি করেনি। ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐক্য ও সমঝোতার পথই এখন একমাত্র সমাধান।”
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর ঐক্যই ছিল এই অভ্যুত্থান ও ঐকমত্য প্রক্রিয়ার ভিত্তি। সেই ঐক্যের মাধ্যমেই রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে নিজেদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। গণসংহতি আন্দোলন মনে করে, এই জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতেই বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা জরুরি।
দুই নেতা আরও বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালা দেখে মনে হচ্ছে, তারা সেই আস্থার জায়গায় অবস্থান করছে না। বরং কোনো বিশেষ পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে জাতীয় ঐকমত্যকেই হুমকির মুখে ফেলছে—এমন ধারণা জনগণের মধ্যে তৈরি হচ্ছে।”
তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”