খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়ন ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরের লক্ষ্য থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) মাসের শেষ দিন হলেও খসড়া সনদের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ইস্যুগুলোতে দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায়।
‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ ছয় মাস আগে যাত্রা শুরু করেছিল রাজনৈতিক সংস্কারে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তুলতে। তবে অন্তত আটটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সনদ চূড়ান্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মূলত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি ও এনসিপির মধ্যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে মতবিরোধের কারণেই বিলম্ব তৈরি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কমিশন আবারও দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসে একটি সমন্বিত খসড়া উপস্থাপন করবে বলে জানা গেছে।
গতকাল (৩০ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ২২তম বৈঠকে ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা আশা করছি, আজ একটি সমন্বিত ও গ্রহণযোগ্য খসড়া সনদ তুলে দিতে পারব। খসড়ায় পরামর্শ বা আপত্তি থাকলে দ্রুত জানাতে হবে, যেন আলোচনা দ্রুত শেষ করা যায়।”
কীভাবে শুরু হয়েছিল প্রক্রিয়া?
গত বছরের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। সেগুলোর সুপারিশ পর্যালোচনা করে আলাদা দুটি ভাগে ভাগ করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। যেসব সুপারিশ প্রশাসনিক বা আইনগতভাবে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অপরদিকে, ১৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রথম ধাপে (২০ মার্চ–১৯ মে) পৃথকভাবে দলগুলোর সঙ্গে এবং দ্বিতীয় ধাপে (৩ জুন থেকে) একত্রে আলোচনা শুরু হয়। প্রথম দফায় ৩২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট আলোচনায় অংশ নেয়।
এখন পর্যন্ত যেসব বিষয়ে ঐকমত্য
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চার মাসে ১৯টি বৈঠকের পর ১২টি বিষয়ের ওপর ঐকমত্য হয়েছে।
সেগুলো হলো: প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব নিয়ে নতুন বিধান, নির্বাচনি সীমানা পুনর্নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা সংক্রান্ত বিধানে সংশোধন, হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ ও নিম্ন আদালত উপজেলায় স্থানান্তর, জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন গঠনের পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত, ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠন, প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকা বাতিল, সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বে নীতিগত সমর্থন।
যেসব বিষয়ে এখনো মতৈক্য হয়নি
দুই দফা সংলাপের পরও আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি।
সেগুলো: সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ চার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ও নির্বাচনের পদ্ধতি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি, রাষ্ট্রের মূলনীতি সংশোধন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব।
গতকালকার আলোচনা ও দলগুলোর মতামত
বুধবারের বৈঠকে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও একটি বিষয়েও চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। বিকাল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বৈঠকে নারী প্রতিনিধিত্ব ইস্যুতে তুলনামূলক অগ্রগতি হলেও, তা চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সংস্কারগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে—এটা ইতিবাচক। তবে নির্বাচিত সরকার এলে তা ধরে রাখবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা জরুরি।”
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকলে এ আলোচনা অর্থহীন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনটি পদ্ধতিতে (আইন, গণভোট, রেফারেন্ডাম) এটি সম্ভব।”
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই ঘোষণা দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনে নামব।”
খবরওয়ালা/টিএসএন