খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের পথপ্রদর্শক ব্যান্ড ওয়ারফেজ ইতিহাস রচনা করেছে। ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য এটি দেশের প্রথম ব্যান্ড হিসেবে মনোনীত হলো। চার দশকের অসাধারণ সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। ওয়ারফেজের সঙ্গে এই সম্মান পাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আরও নয়জন প্রতিভাবান ব্যক্তি। আনুষ্ঠানিক পদক প্রদান অনুষ্ঠান এই মাসের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনীত হওয়ার পর ব্যান্ডটি একটি বিশাল পুনর্মিলনী আয়োজন করে। বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যরা কনাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনসহ বিভিন্ন দেশের কোণে থেকে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল একুশে পদক প্রাপ্তির আনন্দ উদযাপন ও সব সদস্যের জন্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করা।
প্রতিষ্ঠাতা ও গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কামাল বলেছেন, “ওয়ারফেজ কেবল একটি ব্যান্ড নয়; এটি একটি পরিবার। পদক ঘোষণার পর আমরা ঠিক করেছিলাম, আমরা এই সম্মান একসাথে গ্রহণ করব। সবকিছু এত দ্রুত এবং সুন্দরভাবে ঘটেছে যে মনে হচ্ছে এটি একটি স্বপ্ন।”
সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ব্যান্ড লিডার ও ড্রামার শেখ মনিরুল আলম যোগ করেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের মূল লাইনআপের র্যুসেল আলী উপস্থিত হতে পারেননি। যারা আসতে পারলেন না, তাদের আমরা খুব মিস করেছি। সবার উপস্থিতি হলে উদযাপন আরও আনন্দময় হতো।”
অনুষ্ঠানটি শুক্রবার বনানীতে অনুষ্ঠিত হয়। সদস্য ও তাদের পরিবার অনুষ্ঠানস্থলকে উষ্ণতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আবহে ভরিয়ে দেন। ইফতার ও সন্ধ্যার ডিনারসহ বিভিন্ন সঙ্গীত ও শিল্পকলা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রাণবন্ততা বৃদ্ধি করে। পুরনো দিনের গল্প ও স্মৃতিচারণ শোনানো হয়, যা চার দশকের সঙ্গীত যাত্রার ধারাবাহিকতা পুনঃস্মরণ করায়। শেখ মনিরুল আলম বলেন, “এটি সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক মিলনের মতো অনুভূত হয়। সবাই গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল; এটি সত্যিই একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠান।”
ওয়ারফেজ ১৯৮৪ সালে ঢাকায় পাঁচজন স্কুলবন্ধু—কামাল (বেস), মীর (গিটার), নঈমুল (গিটার), হেলাল (ড্রামস), এবং বাপ্পি (ভোকাল) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে এটি দেশের রক সঙ্গীতের ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে এবং অনেক নতুন প্রজন্মের সঙ্গীতজ্ঞকে অনুপ্রাণিত করেছে।
| বছর | গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা |
|---|---|
| ১৯৮৪ | ওয়ারফেজ প্রতিষ্ঠা; প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ |
| ১৯৮৫–১৯৯০ | প্রাথমিক রেকর্ডিং ও লাইভ পারফরম্যান্স |
| ১৯৯০–২০০০ | জাতীয় স্বীকৃতি; সফল লাইভ শো |
| ২০০০–২০১০ | নতুন সদস্য সংযোজন; রেকর্ডিং প্রকল্প; আন্তর্জাতিক সফর |
| ২০১০–২০২০ | ভক্তবৃন্দের বৃদ্ধি; আধুনিক রক ধারার বিকাশ |
| ২০২৬ | প্রথম রক ব্যান্ড হিসেবে একুশে পদক প্রাপ্ত |
কামাল স্মরণ করেন, “সেন্ট জোসেফ স্কুলে আমরা আমাদের সঞ্চয় মিলিয়েছি যন্ত্রপাতি কিনতে এবং ওয়ারফেজ গড়তে। আমাদের প্রথম পারফরম্যান্স হয় ৬ জুন ১৯৮৪, ৮৯ লেক সার্কাস, কোলাবাগান। পদক ঘোষণার খবর শোনার পর সেই দিন মনে পড়ে গেল।”
শেখ মনিরুল আলম যোগ করেন, “চার দশক পেরিয়ে গেছে। এই অর্জন শুধুমাত্র ওয়ারফেজের নয়, বাংলাদেশের সব রক সঙ্গীতপ্রেমীরও।”
চল্লিশ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় ওয়ারফেজ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং বাংলাদেশের রক সঙ্গীতের ঐতিহ্য স্থাপন করেছে। তাদের নিবেদন, উদ্ভাবন এবং প্রভাবই আজ তাদের দেশের সর্বোচ্চ সাংস্কৃতিক সম্মান—একুশে পদক—প্রদান নিশ্চিত করেছে।