খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান। তিনি একাধারে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও অনন্য সরোদবাদক।
১৯৩১ সালের ১৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ এবং মাতা উমর উন-নেসা। চাচা ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সঙ্গীতগুরু।
শৈশবেই পরিবারের সঙ্গীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠা বাহাদুর হোসেন খান পিতার কাছেই সরোদের হাতেখড়ি নেন। পরবর্তীতে মাইহারে চাচা আলাউদ্দিন খাঁর কাছে দীর্ঘ ২০ বছর তালিম নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন এক পরিপূর্ণ সঙ্গীত সাধক।
১৯৪৯ সালে তিনি বাংলাদেশ বেতারে শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে মুম্বাই গিয়ে শান্তি বর্মণের ‘লিটল ব্যালে ট্রুপ’-এ সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তাঁর সুরের জাদু শোনা যায় ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী চলচ্চিত্র মেঘে ঢাকা তারা ও সুবর্ণ রেখা-তে। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ‘নতুন পাতা’, ত্রিসন্ধ্যা, যেখানে দাঁড়িয়ে, শ্বেত ময়ূর, তিতাস একটি নদীর নাম, গরম হাওয়া, যুক্তি তক্কো আর গপ্পোসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ছবিতে তাঁর সঙ্গীত আজও শ্রোতাকে মুগ্ধ করে। ১৯৭৯ সালের হিন্দি চলচ্চিত্র আমাভাস কি চাঁদ–এর মাধ্যমে তিনি হৈমন্তী শুক্লাকে চলচ্চিত্রের নেপথ্য গানে নিয়ে আসেন।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তাঁর গভীর দক্ষতা শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, প্রামাণ্যচিত্রেও ছাপ ফেলেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও যামিনী রায়কে নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রে আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেন তিনি।
কিছু সময় তিনি কলকাতা ও ক্যালিফোর্নিয়ার আলী আকবর কলেজ অব মিউজিকে অধ্যাপনা করে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করে তুলেছিলেন।
মাত্র ৫৮ বছর বয়সে, ১৯৮৯ সালের ৩ অক্টোবর, এই সঙ্গীত সম্রাট চিরতরে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
তাঁর রেখে যাওয়া সুর, সরোদ আর চলচ্চিত্র সঙ্গীত আজও প্রমাণ করে
ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান ছিলেন এক অনন্য সঙ্গীত সাধক, যিনি বাঙালির সঙ্গীত ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন চিরস্মরণীয়ভাবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড