খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে মাঘ ১৪৩২ | ২৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে নুর নাহার (প্রায় ৩৫) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহেশখালী সংলগ্ন গোরকঘাটা হামিদিয়া খালের মুখ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গতি, অনভিজ্ঞ চালক এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতিই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
নিহত নুর নাহার মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের সামিরাঘোনা গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ জানান, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী একাই যাত্রা করছিলেন। ফলে প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে সন্ধ্যার দিকে স্বজনরা খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে উপস্থিত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গোরকঘাটা জেটিঘাট থেকে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট কক্সবাজার শহরের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রীদের মধ্যে তিনজন পর্যটক ছিলেন। স্পিডবোটটি হামিদিয়া খালের মুখ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। চালক মনজুর তখন ইঞ্জিনের প্রপেলারে মাছ ধরার জাল বা অন্য কোনো বস্তু আটকে আছে কি না তা পরীক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় কক্সবাজার থেকে মহেশখালীর দিকে দ্রুতগতিতে আসা আরেকটি স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা স্পিডবোটটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় নারী যাত্রীসহ কয়েকজন সাগরে ছিটকে পড়েন। আশপাশে থাকা ট্রলার ও অন্যান্য স্পিডবোটের যাত্রীরা দ্রুত এগিয়ে এসে পানিতে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত নুর নাহারকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় পড়া স্পিডবোটটির যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নৌযানটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। কোনো যাত্রীর জন্য লাইফ জ্যাকেট রাখা হয়নি। এছাড়া মনজুর নামের তরুণ চালকের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না বলেও দাবি করা হয়। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। অন্যদিকে, সংঘর্ষে জড়িত দ্বিতীয় স্পিডবোটের চালক ও যাত্রীরাও দ্রুতগতিতে চলাচলের কথা স্বীকার করেছেন।
ইউএনও ইমরান মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নৌপথে যাত্রী চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পিডবোট পরিচালনায় লাইসেন্সধারী চালক, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাধ্যতামূলক লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকির আশ্বাস দেন তিনি।
নৌপথে সংঘটিত এই দুর্ঘটনা আবারও নিরাপত্তাহীন স্পিডবোট চলাচল নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, পর্যটন মৌসুমে যাত্রী চাপ বাড়লেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন তেমন হয়নি। নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন।
দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | গোরকঘাটা হামিদিয়া খালের মুখ, মহেশখালী |
| সময় | ২৬ জানুয়ারি, দুপুর সোয়া ১২টা |
| নিহত | নুর নাহার (এক নারী) |
| আহত | কয়েকজন যাত্রী |
| সম্ভাব্য কারণ | অতিরিক্ত গতি, ইঞ্জিন বিকল, নিরাপত্তা ঘাটতি |
| প্রশাসনিক পদক্ষেপ | আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের প্রস্তুতি |
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে নৌপথে যাত্রী পরিবহনে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে।