খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
পূর্ব ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-র (ডিআর কঙ্গো) ইতুরি প্রদেশে সন্দেহভাজন এডিএফ (Allied Democratic Forces) বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও ওকাপি শুক্রবার ও শনিবারের প্রতিবেদনে জানায়, হত্যাকাণ্ডটি ৯ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে মাম্বাসা অঞ্চলের মুচাচা ও বাবেসুয়া এলাকায় সংঘটিত হয়।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মুচাচা স্বর্ণ খনি এলাকায় ৩৫ জন এবং বাবেসুয়া এলাকায় ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলাকারীরা কেবল মানুষ হত্যা করেনি, বরং ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মূল্যবান সম্পদ চুরি করা হয়েছে।
| এলাকা | নিহত সংখ্যা | প্রভাব |
|---|---|---|
| মুচাচা স্বর্ণ খনি | ৩৫ | ঘরবাড়ি ধ্বংস, লুটপাট, স্থানীয় পরিবার বাস্তুচ্যুত |
| বাবেসুয়া | ১৫ | অগ্নিসংযোগ, সম্পদ লুট, নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি |
বিদ্রোহী হামলার কারণে ৪ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকা থেকে কয়েক ডজন পরিবার তাদের ঘরছাড়া হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে উগান্ডা ও কঙ্গোর সরকারি বাহিনী যৌথভাবে এডিএফ বিদ্রোহীদের দমন অভিযানে নেমেও এখনও পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। খনি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে হামলা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। তারা দ্রুত রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দফতর ওসিএইচএ ১৩ মার্চ এক বিবৃতিতে ইতুরি প্রদেশের অব্যাহত সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় শিবিরগুলোতে উপচে পড়া ভিড় তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, বিদ্রোহীদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।
বিদ্রোহী হামলার এই ধরনের ধ্বংসাত্মক ঘটনা কেবল জীবনহানি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খনি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সুষ্ঠু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন।