খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিতে নয়াপল্টনে যান কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ও সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যে তিনি হট্টগোলের মুখে পড়েন এবং কতিপয় ব্যক্তির দ্বারা দুর্ব্যবহারের শিকার হন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সমালোচনা সৃষ্টি হলে দলটির পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
রুহুল কবির রিজভী জানান, একজন গুণী শিল্পীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কনকচাঁপার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন, তাদের শনাক্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রয় ও জমা দেওয়ার বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। গত দুই দিনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নিচে এ সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত পরিসংখ্যান
| বিষয় | বিবরণ |
| মোট ফরম বিক্রয় | ১,০৭২টি |
| মোট ফরম জমা | ৩০০টি |
| আবেদনের সময়সীমা | গত দুই দিন |
| আবেদনকারীদের ধরন | রাজনৈতিক কর্মী, সংস্কৃতিকর্মী ও গুণীজন |
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিগত দিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে যারা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বা বিভিন্নভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।
মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিবেচ্য প্রধান বিষয়সমূহ:
আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা: দলের দুঃসময়ে রাজপথের আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ত্যাগ স্বীকার।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও মেধার ওপর গুরুত্বারোপ।
সাংগঠনিক অবদান: দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকা ও সাংগঠনিক সক্ষমতা।
পেশাগত ও সাংস্কৃতিক অবস্থান: গুণীজন এবং সংস্কৃতিকর্মীদের সংসদীয় কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা।
রিজভী উল্লেখ করেন, এবার মনোনয়ন ফরম কেনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গুণী ও সংস্কৃতিকর্মী রয়েছেন। দল মনে করে, সংসদে গুণী ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। কনকচাঁপার মতো বরেণ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দলের প্রতি সুশীল সমাজের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে বিএনপি।
পরিশেষে জানানো হয়, জমাকৃত ৩০০টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দলের হাইকমান্ড চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে। ত্যাগী নারী কর্মী ও যোগ্য প্রবীণ-নবীনদের সমন্বয়েই এই তালিকা প্রণয়ন করা হবে বলে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।