নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে মানবিক করিডর প্রতিষ্ঠা এবং চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি। তারা বলেছে, এসব বিষয়ে দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সুস্পষ্ট আলোচনা ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আত্মঘাতী হতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা কোনো রাষ্ট্রের প্রক্সি হতে চাই না। করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে সরকারের অবস্থান আমাদের উদ্বিগ্ন করছে।’
তিনি বলেন, ‘রাখাইনে কোনো ধরনের করিডর বা চ্যানেল স্থাপন, কিংবা চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি অংশীদার যুক্ত করার আগে জনগণের সম্মতি ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জনগণের জানার বাইরে গিয়ে নেওয়া হলে তা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’
স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হতে হবে রোহিঙ্গাদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে, কোনো বৈদেশিক শক্তির ইচ্ছা বা স্বার্থে নয়। জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা যেমন ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইজরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি, তেমনি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।’
সংগঠনটির দাবি, রাখাইন অঞ্চলে মানবিক করিডরের প্রস্তাব অনেকটা আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইজরাইল ও আরব রাষ্ট্রগুলোর আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মত; যেখানে ফিলিস্তিনের স্বার্থ উপেক্ষা করে দখলদারদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাই আরাকান আর্মিকে নয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকেই এই অঞ্চলে প্রাধান্য দিতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে যুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি। তারা দাবি করে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরাইল ও ভারতীয় স্বার্থ, এবং এতে বাংলাদেশের কৌশলগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
জিয়াউল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন বা ইজরাইলি জাহাজ ভিড়বে কিনা, ভারতীয়দের কর্মী হিসেবে রাখা হবে কিনা—এসব স্পষ্ট না করে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে আনা অনৈতিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব চুক্তি গোপন না করে জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এনে বন্দর পরিচালনার প্রয়োজন নেই, বরং বাংলাদেশি জনবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করলেই এই সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এসব জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত সাধারণত সংসদে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে গৃহীত হয়। একটি অন্তর্বর্তী সরকারকে এমন হঠাৎ ও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে।
খবরওয়ালা/আরডি