খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
কলকাতা নাইট রাইডার্সের (KKR) ফেসবুক পেজে শেষ কয়েক দিনের ঘটনাচক্রে এক অস্বাভাবিক পতন লক্ষ্য করা গেছে। পোস্টগুলিতে ‘অ্যাংরি’ ও ‘হাহা’ রিঅ্যাকশনগুলোর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, নেতিবাচক মন্তব্যের সংখ্যা তীব্রভাবে বেড়েছে এবং ফলোয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। সম্প্রতি মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ ফলোয়ার হারিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অফিসিয়াল পেজ।
এই ধারা শুরু হয় বাঁহাতি টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রূপিতে কলকাতা দলে নেওয়া মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ফলোয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, প্রতি দিন প্রায় ৫ লাখ ফলোয়ার কমছে, যা হিসাব করলে প্রতি মিনিটে ৩৪৭ এবং প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫ জন ফলোয়ারের হার।
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পোস্টে ২ লাখ ৩ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, যার মধ্যে ‘অ্যাংরি’ ১ লাখ ৩৭ হাজার এবং ‘হাহা’ ৪০ হাজার। মন্তব্যের সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশি, যেখানে বেশির ভাগই বিসিসিআই, আইপিএল ও ভারতের নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
মোস্তাফিজের বাদ দেওয়ার পর কলকাতার পেজে আরও ৯টি পোস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পোস্টগুলো ছিল—বরুণ চক্রবর্তী, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল, এবং অস্ট্রেলিয়ার পেসার ক্যামেরন গ্রিন। এগুলিতেও একই ধরণের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মোস্তাফিজ এখন পর্যন্ত আইপিএলের পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন—সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, চেন্নাই সুপার কিংস। ৬০ ম্যাচে ৬৫ উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ৮.১৩। ২০২৪ সালে চেন্নাই সুপার কিংস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোস্তাফিজকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করেছে। তবে এবার রাজনৈতিক কারণে তিনি আইপিএলে খেলতে পারছেন না।
নিচের টেবিলে দেখা যাচ্ছে মোস্তাফিজের ফেসবুক পোস্টে প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত:
| পোস্ট বিষয় | অ্যাংরি | হাহা | মোট রিঅ্যাকশন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| মোস্তাফিজ বাদ | ১,৩৭,০০০ | ৪০,০০০ | ২,০৩,০০০+ | ৬০,০০০+ |
| বরুণ চক্রবর্তী | ২৫,০০০ | ১২,০০০ | ৪০,০০০+ | ১৫,০০০+ |
| নিউজিল্যান্ড সিরিজ | ২০,০০০ | ১০,০০০ | ৩৫,০০০+ | ১২,০০০+ |
| অনূর্ধ্ব-১৯ দল | ১৮,০০০ | ৮,০০০ | ৩০,০০০+ | ১০,০০০+ |
| ক্যামেরন গ্রিন | ১৫,০০০ | ৭,০০০ | ২৫,০০০+ | ৮,০০০+ |
KKR-এর সামাজিক মাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দলের এই সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফলোয়ারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দ্রুত সমন্বয় ও দর্শক প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল গ্রহণ না করলে ফলোয়ার সংখ্যা আরও কমতে পারে।