খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে উঠে আসা জননন্দিত নেতা আরিফুল হক চৌধুরী এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে এসে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আসীন হওয়ার এই যাত্রাপথ অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের এক সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ঠিক ২৩ বছর পর, ২০২৬ সালে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই উত্তরণ কেবল তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং নিরলস জনসেবা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার এক সম্মিলিত প্রতিফলন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জ) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শেষ মুহূর্তে দলের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামলেও তিনি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নিচে তাঁর নির্বাচনের প্রাপ্ত ভোটের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল ও প্রতীক | প্রাপ্ত ভোট | ব্যবধান |
| আরিফুল হক চৌধুরী | বিএনপি (ধানের শীষ) | ১,৮৮,৩৪৬ | ১,১৮,৩৭১ |
| মো. জয়নাল আবেদীন | জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) | ৬৯,৯৭৫ | — |
এই ভূমিধস বিজয়ের পর তাঁকে সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সিলেটের বিপুল সংখ্যক মানুষ বিদেশে কর্মরত থাকায় এই মন্ত্রণালয়টি তাঁর এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ছাত্রজীবনেই। ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
কাউন্সিলর থেকে মেয়র: ২০০৩ সালে তিনি প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে তিনি সিলেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৩ সালে তিনি সিলেটের অপরাজেয় নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়ে চমক দেখান। পরবর্তীতে ২০১৮ সালেও তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।
ত্যাগের মহিমা: ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিনি মেয়র পদে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, যা তাঁকে রাজনৈতিক মহলে একজন সুশৃঙ্খল ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তাঁর এই ত্যাগের পুরস্কার হিসেবেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতে নিয়ে আসা হয়।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করা আরিফুল হকের পিতা সফিকুল হক চৌধুরী ও মাতা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল কেবল রাজনীতিতেই নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও একজন পরিচিত মুখ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন কমিটির বিভাগীয় আহ্বায়ক হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিলেটের আধুনিকায়নে তাঁর অবদানের কথা আজ সর্বজনবিদিত। বিশেষ করে নগরের জলবদ্ধতা দূরীকরণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণে তাঁর সাহসী পদক্ষেপগুলো ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
কাউন্সিলর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ২৩ বছরের যাত্রায় আরিফুল হক চৌধুরী প্রমাণ করেছেন যে, সততা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছানো সম্ভব।