খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভারত অধ্যুষিত জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (JeM) অন্যতম শীর্ষ ও মোস্ট ওয়ান্টেড কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার শুরু হওয়া এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ওই শীর্ষ নেতার সঙ্গে আরও দুই সহযোগী সন্ত্রাসী নিহত হয়। ভারতের জাতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে প্রধান ব্যক্তি হলেন জইশ-ই-মোহাম্মদের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার সাইফুল্লাহ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছর ধরে তিনি কিশ্তওয়ার ও এর পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর নথিতে তাকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। বিস্ময়কর তথ্য হলো, এর আগে অন্তত ২০ বার নিরাপত্তা বাহিনীর নিখুঁত ঘেরাও এবং সাঁড়াশি অভিযান থেকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। বারবার বেঁচে ফেরার কারণে তিনি স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন।
কিশ্তওয়ারের দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর একটি যৌথ দল গঠন করা হয়। এই বিশেষ দলে অন্তর্ভুক্ত ছিল:
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ
কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ এলিট ফোর্স (Special Forces)
নিরাপত্তা বাহিনী যখন সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে এগোচ্ছিল, তখন সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে গুলি বর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং পাল্টা জবাবে নিরাপত্তা বাহিনীও কার্যকর গোলাবর্ষণ করে। কয়েক ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ শেষে সাইফুল্লাহসহ তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে দুটি অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অন্যান্য রণসজ্জা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কিশ্তওয়ারের দুর্গম বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ শুরু করা হয়েছে। মূলত চাত্রু বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে এ অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদ ও অন্যান্য সংগঠনের নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ধ্বংস করা।
নিচে সাম্প্রতিক এই অভিযানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| অভিযানের নাম | মূল লক্ষ্যস্থল | অর্জিত সাফল্য |
| অপারেশন ত্রাশি-১ | চাত্রু, সন্নার, দোলগাম ও দিচ্ছর এলাকা | জইশ কমান্ডার সাইফুল্লাহসহ ৩ সন্ত্রাসী নিহত |
| অস্ত্র উদ্ধার | সংঘর্ষস্থল | ২ টি অ্যাসল্ট রাইফেল ও প্রচুর যুদ্ধ সরঞ্জাম |
| পূর্ববর্তী সাফল্য | চাত্রু বনাঞ্চল | শীর্ষ সন্ত্রাসী আদিলের মৃত্যু |
| নিরাপত্তা বাহিনীর শক্তি | যৌথ কমান্ড | পুলিশ, সিআরপিএফ ও স্পেশাল ফোর্সের সমন্বয় |
সাম্প্রতিক সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের এই অংশে সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। গত মাসে চাত্রু বনাঞ্চলে প্রায় অর্ধডজন বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সাইফুল্লাহর মৃত্যু জইশ-ই-মোহাম্মদের স্থানীয় কাঠামোর জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ কিছুদিন আগেই তাদের আরেক প্রভাবশালী সদস্য আদিল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা এসব পাহাড়ি এলাকাকে তাদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। তবে ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ এর ধারাবাহিক সাফল্য সেই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বনাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলমান রয়েছে যাতে কোনো অবশিষ্টাংশ গা ঢাকা দিতে না পারে।