কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে র্যাব। সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যাত্রীবেশে তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ, লুটপাট এবং পরবর্তীতে চলন্ত যান থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
র্যাবের তদন্ত অনুযায়ী, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট প্রশিক্ষণ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে নিজ বাসায় ফেরার পথে এ নির্মম ঘটনার শিকার হন। গত ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার আইরিশ হোটেলের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে থানায় মামলা হয়। নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল এবং মো. সুজন। তাদের কাছ থেকে নিহত কর্মকর্তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ, পোশাকসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সিএনজি, চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, প্লায়ার্স ও নগদ অর্থও জব্দ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। তারা সাধারণ যাত্রীবেশে সিএনজিতে ওঠে এবং পরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মালামাল লুট করত।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা
ঘটনার দিন রাতে জাগুরঝুলি বিশ্বরোড এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেয় চক্রটি। বুলেট বৈরাগী সেখানে একটি সিএনজিতে ওঠেন। যাত্রাপথে চালকসহ ভেতরে থাকা অন্য আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়।
পরে কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে তাকে চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। ঘটনার পরপরই চক্রটি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেফতার ও উদ্ধার তথ্য
নিচে গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত সামগ্রীর একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো—
| শ্রেণি |
বিবরণ |
| গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি |
মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল, মো. সুজন |
| উদ্ধারকৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী |
মোবাইল ফোন, ব্যাগ, পোশাক |
| উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম |
চাপাতি, সুইচ গিয়ার, স্ক্রু ড্রাইভার, হাতুড়ি, প্লায়ার্স |
| জব্দকৃত যানবাহন |
সিএনজি |
| অন্যান্য |
নগদ অর্থ |
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী চক্রের সদস্য এবং তাদের বিরুদ্ধে রেলপথে ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিতভাবে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
তিনি আরও জানান, দ্রুত তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত এবং আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও অগ্রসর হচ্ছে।
ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এ চক্রের আরও সদস্য থাকতে পারে এবং তাদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।