খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের ক্রমবর্ধমান কিশোর অপরাধ এবং ‘কিশোর গ্যাং’ সংস্কৃতি নির্মূলে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেছেন বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, গভীর রাতে কিশোরদের রাস্তায় অযাচিত ঘোরাঘুরি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশকে বিশেষ তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের কচুয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, রাতে কিশোরদের রাস্তায় কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ঘোরাঘুরি করা সমাজের জন্য অস্থিরতা তৈরি করছে। এখন থেকে পুলিশ রাস্তায় এমন কাউকে দেখলে তাকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে—সে কেন ঘুরছে, কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এতে যদি সাময়িকভাবে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের (Constitutional Violation) প্রশ্নও ওঠে, তবে সেটি আমরা পরবর্তীতে আইনিভাবে মোকাবিলা করব। কিন্তু এই মুহূর্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এর কোনো বিকল্প নেই।” মন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কিশোর অপরাধের মূল উপড়ে ফেলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নিচে শিক্ষামন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা ও প্রশাসনের উপস্থিত কর্মকর্তাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
| বিষয়/অংশগ্রহণকারী | বিবরণ/ভূমিকা |
| প্রধান নির্দেশ | গভীর রাতে কিশোরদের অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ। |
| মূল লক্ষ্য | কিশোর অপরাধ হ্রাস এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। |
| দুর্নীতি বিষয়ে অবস্থান | নিজে দুর্নীতি করবেন না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেবেন না। |
| জেলা প্রশাসক | মো. নাজমুল ইসলাম সরকার (চাঁদপুর)। |
| পুলিশ সুপার | রবিউল হাসান (চাঁদপুর)। |
| উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা | মাহমুদুল হাসান রাসেল (কচুয়া)। |
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক অবিস্মরণীয় প্রতিজ্ঞা (Promise) ব্যক্ত করেন। ড. মিলন বলেন, “আমি জীবনে নিজে কোনো দুর্নীতি করব না এবং কাউকে দুর্নীতি করতে দেব না। এটি আমার চিরস্থায়ী অঙ্গীকার। আমার এই নীতির সাথে যারা একমত হতে পারবেন না, তাদের জন্য প্রশাসনের এই দফতরে কোনো স্থান নেই।”
তিনি কর্মকর্তাদের আরও পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, যারা এই স্বচ্ছ ও পবিত্র কর্মপরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারবেন না, তারা যেন স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। প্রয়োজনে তিনি নিজেই তাঁদের ভালো জায়গায় বদলির ব্যবস্থা করবেন, কিন্তু তাঁর এলাকায় কোনো প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা দুর্নীতির প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
সভায় উপস্থিত প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মন্ত্রীর এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে একাত্মতা প্রকাশ করেন। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন যে, কিশোর গ্যাং এবং রাতের বেলা বখাটেপনা রোধে টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন মোড়গুলোতে ডিবির নজরদারি জোরদার করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই সাহসী ও মার্জিত অবস্থানকে সুশীল সমাজ সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে আইনজ্ঞরা মনে করছেন, জিজ্ঞাসাবাদ যেন কোনোভাবেই হয়রানিমূলক না হয়, সেদিকেও পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। সার্বিকভাবে, শিক্ষামন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা চাঁদপুরের কচুয়াসহ সারা দেশের অপরাধ দমনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।