খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ই-ট্রানজেকশন বা ইলেকট্রনিক আর্থিক লেনদেন ব্যবহার করে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় মুন্না মিয়া (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের অন্তর্গত বড় গাবেরতল এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক অন্যান্য জুয়াড়ি ও সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
উলিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্মার্টফোন ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে একদল যুবক নিয়মিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইন জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছিল। এমন সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত রাতে উলিপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গুনাইগাছ ইউনিয়নের বড় গাবেরতল এলাকায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই এলাকার ‘মামা-ভাগ্নে ডেকরেটর’ নামক একটি বাণিজ্যিক দোকানে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন সময়ে দেখা যায়, দোকানের ভেতরে বেশ কয়েকজন যুবক মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ ও অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহার করে আর্থিক বা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে জুয়া খেলায় লিপ্ত রয়েছেন। পুলিশের আকস্মিক উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসর থেকে কয়েকজন যুবক দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ মুন্না মিয়াকে হাতেনাতে অবরুদ্ধ ও আটক করতে সমর্থ হয়। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আটককৃত মুন্না মিয়ার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার পরিহিত প্যান্টের পকেট থেকে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকা বাজারমূল্যের একটি আধুনিক স্মার্টফোন জব্দ করে পুলিশ। জব্দকৃত ওই মোবাইল ফোনটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে এর ভেতরে ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থ আদান-প্রদান ও আন্তর্জাতিক অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলার সুনির্দিষ্ট এবং অপরাধমূলক বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
উলিপুর থানা পুলিশের দায়েরকৃত মামলা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে আটককৃত আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মুন্না মিয়া, যার বর্তমান বয়স ৩১ বছর। সে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের বড় গাবেরতল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজের ছেলে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত মুন্না মিয়াসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সাধারণ তরুণ ও যুবকদের অনলাইন জুয়ায় আসক্ত করার কাজে লিপ্ত ছিলেন। পুলিশ দাবি করেছে, আসামিরা মূলত আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন অ্যাপসের স্থানীয় সংযোগকারী (লিংক প্রোভাইডার) এবং আর্থিক লেনদেন সম্পন্নকারী সুনির্দিষ্ট এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তারা অবৈধ ডিজিটাল ট্রানজেকশনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থ বিদেশে পাচার বা অপরাধমূলক চক্রের কাছে স্থানান্তরেও যুক্ত ছিলেন বলে আলামত পাওয়া গেছে।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও জুয়া খেলার ডিজিটাল আলামতসহ আসামি মুন্না মিয়াকে উলিপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আটককৃত মুন্না মিয়া এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত সাইবার সুরক্ষা আইনে (Cyber Security Act) একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার (২১ জুন) দুপুরের দিকে আসামিকে কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক আরও জানান, এই অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত পলাতক জুয়াড়িদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা শনাক্ত করে তাদের দ্রুত গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।