কুমিল্লার বজ্রপুর এলাকায় অটোরিকশা চালক অনিক। দিনে এনে দিনে খাই।
কিন্তু সততায় যেন এক অনন্য উদাহরণ। বৃহস্পতিবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হন অনিক। সেই সকালে তার অটোরিকাশায় এক যাত্রী ভুলবশত রেখে যায় ১৫ লাখ টাকা ।
অনিক, যিনি নগরীর চৌধুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নিজেও একজন অটোরিকশাচালক পরিবারের সন্তান, গাড়িতে পেয়ে যান একটি নীল রঙের পলিথিন ব্যাগ। ভেতর থেকে বের হয় আরও একটি কালো ব্যাগ, আর তাতে লুকানো ছিল মোটা অঙ্কের টাকা — ১৫ লাখ টাকা।
মালিক মরন সূত্রধর, যিনি নগরীর ছাতিপট্টি এলাকার একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী, সকালে এই টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন। মেয়েকে বজ্রপুরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ভুলবশত ব্যাগটি অটোরিকশায় ফেলে আসেন। স্কুলে পৌঁছে মেয়েকে দিয়ে আসার পর রাস্তায় গাড়িটি আর খুঁজে পাননি।
অনিক যখন গাড়িতে বসে ছিলেন, তখন সিটে ব্যাগটি দেখতে পান। প্রথমে কিছুটা অবাক হলেও দ্রুতই টাকার মালিককে খুঁজে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার বাবাকে ফোন করে বিস্তারিত জানান। বাবার কাছে পেয়ে অনিকের মন ভরে ওঠে — বাবার বুদ্ধি, “হারাম টাকা নিয়ে বাঁচতে চাই না, যার যা তার, তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে।”
অনেকে তাকে পরামর্শ দেন, টাকা নিয়ে রাখা সহজ হবে, কিন্তু অনিক বেছে নেন সততার পথ। বারবার ওই স্কুল এলাকা ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে শেষ পর্যন্ত টাকা মালিক মরনকে খুঁজে পান। টাকাটি হাতে ফেরত দিয়ে অনিক জানান, তার জন্য এটি বড় আনন্দের বিষয়।
মরন সূত্রধর ক্ষণিকের জন্য হঠাৎ টাকার হারানোর শোকে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তবে অনিকের সততায় তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, “এমন একজন সত্যিকারের সতর্ক ও ন্যায়পরায়ণ মানুষকে পাওয়া বড় পাওয়া। আজকের দিনে এই ধরনের উদাহরণ সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”
অনিকের এ মনোভাব সমাজে সততা ও মানবিকতার গুরুত্বকে নতুন করে প্রমাণ করেছে। তার মতো মানুষ আজকের বিশ্বে একটি ভালো প্রেরণা।
স্থানীয়রা বলেন, “অনিকের মতো সততার উদাহরণ সমাজের জন্য একটি বড় আলোকবর্তিকা। তার আচরণ তরুণ সমাজের জন্য মডেল হতে পারে।”
অনিক বলেন, “আমি শুধু সেই কাজ করেছি যা সবার উচিত। যার যা তার, তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে।”
খবরওয়ালা/আশ



