খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ধরা পড়ল বিশাল আকৃতির একটি রাজা ইলিশ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) শেষ বিকেলের দিকে কুয়াকাটার ঝাউবন এলাকার জেলে মাসুদ মাঝির জালে ধরা পড়ে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) ওজনের এই রূপালি ইলিশটি। মৌসুম না হওয়া সত্ত্বেও বিরল আকৃতির এই মাছটি ধরা পড়ায় স্থানীয় মৎস্য বাজারে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাছটি ৫ হাজার ৪৫৬ টাকায় বিক্রি করা হয়।
মাছ ধরা পড়া ও নিলামের বিবরণ
জেলে মাসুদ মাঝি জানান, বর্তমানে সাগরে বড় ইলিশের দেখা পাওয়া বেশ দুষ্কর। শীত মৌসুমে সাধারণত ইলিশের আধিক্য কম থাকে এবং যা পাওয়া যায় তাও আকারে ছোট। তিনি প্রতিদিনের মতো সাগরে জাল ফেললে হঠাৎ বড় একটি টান অনুভব করেন। জাল তুলতেই দেখেন রূপালি আভার এক বিশাল ইলিশ। মাসুদ মাঝি বলেন, “আল্লাহর রহমতে সাগরে এখন বড় ইলিশের সংখ্যা অনেক কম থাকলেও আমি এই মাছটি পেয়েছি। পরিমাণে খুব বেশি মাছ না পেলেও আল্লাহ যা দিয়েছেন, তাতেই আমি খুশি।”
মাছটি কুয়াকাটা পৌর বাজারে নিয়ে আসা হলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে শুরু হয় নিলাম। নিলামের মাধ্যমে ‘মাছের বাড়ি’ নামক আড়তের মালিক মো. হাসান সর্বোচ্চ দরে মাছটি কিনে নেন।
নিচে মাছটি বিক্রি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সারণি আকারে দেওয়া হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
|---|---|
| জেলে ও এলাকার নাম | মাসুদ মাঝি, ঝাউবন এলাকা, কুয়াকাটা |
| মাছটির ওজন | ১ কেজি ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) |
| নিলামের দর (মণপ্রতি) | ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা |
| প্রতি কেজির দাম | ৩ হাজার ৮০০ টাকা |
| মোট বিক্রয় মূল্য | ৫ হাজার ৪৫৬ টাকা |
| ক্রেতার নাম | মো. হাসান (মালিক, মাছের বাড়ি আড়ত) |
| বিক্রয় স্থল | ঘরামী ফিস আড়ত, কুয়াকাটা পৌর বাজার |
অসময়ে বড় ইলিশের চাহিদা
আড়তদার মো. হাসান জানান, শীতের এই সময়ে সাধারণত বড় মাছ পাওয়া যায় না। তিনি মাছটি কিনেছেন সামান্য লাভের আশায়। তিনি বলেন, “অসময়ে পাওয়া এই মাছটি বাজারে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। আমি এটি কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে কিনেছি। সামান্য লভ্যাংশ পেলেই এটি কোনো সৌখিন ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেব।”
মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য ও ইলিশের প্রাপ্যতা
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা এই ঘটনা সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, শীত মৌসুমে ইলিশ গভীর সাগরে চলে যায়, ফলে উপকূলে বড় ইলিশ ধরা পড়ার হার অনেকাংশেই কমে যায়। তবে মাঝে মধ্যে বড় ইলিশ ধরা পড়লেও দেড় কেজি ওজনের মাছ এখন বেশ বিরল। তাঁর মতে, সরকারি বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ এবং সাগরে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র সুরক্ষিত থাকায় বড় আকৃতির ইলিশের দেখা মিলছে, যা স্থানীয় জেলেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
এই বিশাল আকৃতির ইলিশটি মূলত বঙ্গোপসাগরের সুস্থ ইকোসিস্টেমের প্রমাণ দেয়। শীতকালীন বাজারে এমন ইলিশ কেবল আভিজাত্যই বাড়ায় না, বরং এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সৌখিন ভোজনরসিকদের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব পায়।