খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাস ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তথ্যানুসারে, ড. রাশেদুল ইসলাম ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–এর কীটতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা থাকলেও তাঁর নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সুপারিশে দায়িত্ব পেয়েছেন। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে ক্যাম্পাসে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা বেড়েছে এবং সামগ্রিক পরিবেশে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্যের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং নিয়োগ ও পদায়নে নীতিমালা অনুসরণের প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি প্রণীত বিধিমালায় উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, একাডেমিক কৃতিত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিম্নে উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত সারণি তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম |
| দায়িত্ব গ্রহণ | ২ ডিসেম্বর ২০২৪ |
| পূর্ববর্তী কর্মস্থল | শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় |
| বিভাগ | কীটতত্ত্ব |
| অভিযোগের ধরন | রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ, নীতিমালা লঙ্ঘন |
| বর্তমান দাবি | পদত্যাগ |
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের নজির রয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও মানদণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের আরেকটি অংশ মনে করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে যে কোনো অভিযোগ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তদন্ত হওয়া উচিত। একতরফা প্রচার বা রাজনৈতিক মেরুকরণ শিক্ষার পরিবেশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা বলছেন, প্রয়োজন হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়োগে স্বচ্ছতার ঘাটতি কিংবা মতাদর্শগত বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ও গবেষণার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সার্বিকভাবে, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি এখন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের মধ্য দিয়েই এ সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট মহলের।