খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে মাঘ ১৪৩২ | ২০ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর উপকণ্ঠ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের খেজুরবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানা আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও ভাসুর পলাতক থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে।
নিহত ফারজানা আক্তার ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার ছোট কৈ খালী এলাকার দুলাল হাওলাদারের বড় মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা দীর্ঘ দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই মাত্র ১০ দিন আগে তিনি তাঁর স্বামী রিফাতের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় এসে তাঁরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ টাইলস মসজিদ গলি এলাকায় জনৈক পরী বানুর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। ওই বাসায় ফারজানার সঙ্গে তাঁর স্বামী রিফাত ছাড়াও শ্বশুর আবুল কালাম এবং ভাসুর সবুজ একত্রে থাকতেন।
ফারজানার মা মাকসুদা বেগম এই মৃত্যুর পেছনে ভাসুর সবুজের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ফারজানার মরদেহ উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগেই মেয়ের সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ফারজানা তাঁর মাকে জানান যে, ঘরে তাঁর ভাসুর সবুজ প্রবেশ করেছেন এবং এই কথা বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই ফারজানার মৃত্যুর সংবাদ পান স্বজনরা। স্বজনদের অভিযোগ, ভাসুর সবুজের উপস্থিতির পর এমন আকস্মিক মৃত্যু স্বাভাবিক হতে পারে না।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট তথ্য:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | ফারজানা আক্তার (২৪) |
| পৈত্রিক নিবাস | ছোট কৈ খালী, কাঠালিয়া, ঝালকাঠি। |
| ঘটনাস্থল | খেজুরবাগ (টাইলস মসজিদ গলি), দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ। |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার রাত) |
| অভিযুক্ত ও পলাতক | স্বামী (রিফাত), শ্বশুর (আবুল কালাম), ভাসুর (সবুজ)। |
| বর্তমান অবস্থা | মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তাধীন। |
| তদন্তকারী সংস্থা | দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। |
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। নিহতের স্বামী রিফাত শুরুতে দাবি করেছিলেন যে, তিনি কর্মস্থল থেকে ফিরে স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে রহস্যজনক বিষয় হলো, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়ার আগেই রিফাতসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পুলিশের ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ (শ্বাসরোধ নাকি অন্য কোনোভাবে) নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং আটকের লক্ষ্যে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। নিহতের স্বজনরা এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, চিকিৎসার জন্য আসা এই পরিবারটি এলাকায় নতুন ছিল, তাই তাদের ব্যক্তিগত কলহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার পর থেকে পুরো পরিবারের উধাও হয়ে যাওয়া একটি পরিকল্পিত অপরাধের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।