কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার তালতলা এলাকায় এক ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে ক্যাশবক্সের টাকা লুট এবং আগুন লাগিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রবিউল ইসলাম-এর নাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি সরাসরি আগুন ধরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ক্যাফের মালিকপক্ষের দাবি, হামলায় অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনায় কুমারখালী থানায় গত ১৩ জুন একটি লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে।
লিখিত এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১০ জুন রাত ৮টার দিকে তালতলা ক্যাফেতে গিয়ে স্থানীয় যুবক সজল মন্ডল জোরপূর্বক নাগরদোলায় বিনামূল্যে উঠতে চান। কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দেন। পরে আরও কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে ভাঙচুর ও ক্যাশবক্সে থাকা প্রায় ৫৭,৪০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
পরদিন, ১১ জুন রাত ২টা ৩০ মিনিটে, অভিযুক্তরা মশাল হাতে আবার ক্যাফেতে হাজির হয়। এ সময় অভিযুক্ত এএসআই রবিউল ইসলাম সরাসরি ক্যাফেতে আগুন লাগানোর নির্দেশ দেন। তার হুকুমে বাকি আসামিরা ক্যাফেতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ক্যাফের সামগ্রী, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, সাজসজ্জা—সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০ লাখ টাকা বলে দাবি মালিকের।
অভিযুক্তরা হলেন, মো. রবিউল ইসলাম (৪২) – এএসআই, জঙ্গলী গ্রাম, মো. শফি মন্ডল (৪৫), মো. রিয়াজ মন্ডল (৪৪), মো. আকাম উদ্দিন (৫০), সজল মন্ডল (২০) – শফি মন্ডলের ছেলে ও শাহারিয়ার হোসেন অনিক – আকাম উদ্দিনের ছেলে।
ক্যাফের মালিক শাহ্ রুবায়েত ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশের কর্মকর্তা জড়িত থাকায় মামলাটি নিতে গড়িমসি করছে থানা। উপরন্তু, এএসআই রবিউল ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই মো. রবিউল ইসলামকে ফোন করলে গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় শোনার পর তিনি কল কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, ‘থানায় একটি এজাহার দেওয়া হয়েছে। আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। থানায় না গিয়ে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
খবরওয়ালা/আরডি