খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটির নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা শাহ পাহলভী একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এই ঘটনাকে ইরানের জনগণের জন্য “স্বাধীনতার এক ঐতিহাসিক সুযোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে চলমান শাসনব্যবস্থার অবসান ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
নিবন্ধের শুরুতেই পাহলভী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানের জনগণের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেন, “তোমাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।” পাহলভী এই বক্তব্যকে ইরানি জনগণের আত্মপ্রত্যয়ের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
পাহলভীর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা শুধু দেশের ভেতরেই নয়, বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিসরেও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে ইরান প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করেছে এবং বিভিন্ন সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে তাঁর মতে, সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের সময় বহু প্রতিবাদকারী নিহত হওয়ার ঘটনা তিনি “অমানবিক ও ক্ষমাহীন” বলে উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ওই বিক্ষোভে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান এবং হাজারের বেশি ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন। পাহলভী দাবি করেন, এ ধরনের দমননীতি জনগণের আস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে।
ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে পাহলভী একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাঁর পরিকল্পনার মূল ধাপগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো—
| প্রস্তাবিত ধাপ | বিবরণ |
|---|---|
| অন্তর্বর্তী প্রশাসন | একটি অস্থায়ী জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন |
| নতুন সংবিধান | গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত নতুন সংবিধান প্রণয়ন |
| আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান | নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা |
| অবাধ নির্বাচন | বহুদলীয় অংশগ্রহণে সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন |
পাহলভী মনে করেন, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ইরান একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র জনগণের হাতেই থাকা উচিত।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে পাহলভী পরিবারের শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই রেজা শাহ পাহলভী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজেকে একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ ইরানের পক্ষে কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিশ্লেষণ চলছে।
তিনি তাঁর নিবন্ধে লেখেন, “ইতিহাস খুব কমই আগাম ঘোষণা দিয়ে পরিবর্তনের মুহূর্ত জানায়। কিন্তু সাহস, নেতৃত্ব ও জাতীয় সংহতি একটি জাতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।” খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের রাজনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।