মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ
প্রকাশ: 23শে চৈত্র ১৪৩১ | ৬ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
আপনার মনের ভেতর ভালো-মন্দ অনুভূতি যাই থাকুক না কেনো, যতোই হাসিমাখা মুখে কথা বলুন, চারপাশের বাঁকা মানুষগুলো আপনার অনপস্থিতকালীন সময় এই হাসি নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতে ভালবাসেন। আপনি সামগ্রিক অর্থে বিভিন্ন সার্কেলে জনপ্রিয় হলে তাদের কারো কারো চেতনায় অগ্নি এমন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে যে, বাইরে থেকে দেখা গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা কাবাব হিসেবে দেখার সুযোগ পেতেন!
অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে যতোই আপনি অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করুন, তখন তারা মনে করবে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা আপনার নেই। আবার যদি একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনি নিত্যদিন কাজ করেন, কিছুটা রাশ-গম্ভীর ভাব নিয়ে কথাবার্তা বলেন – পরে আপনি অবশ্যই শুনবেন তারাই বলছে আপনি একজন ডিক্টেটর।
মেপে কথা বলুন বা পরিমিতভাবে কথা বলুন, তখন খেতাব জুটবে উনি বেশী ‘ডিপ্লোমেটিক’ বা ‘কৌশলী’; অথবা বলাবলি করবে কিছুই জানেনা, তাই কি আর বলবে? আবার একটু বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে কথা বলুন, তখন ঐ দলের লোকজন বলবে – উনি ‘বাচালতা’ ছাড়া আর কি জানে? আবার চারদিকে আপনাকে নিয়ে ‘চাপাবাজ’ তকমা জুড়ে দিতে এক মুহূর্ত দেরী করবেনা তারা!
কাজ করতে গেলে সামান্য ভুলত্রুটি হতেই পারে। এর জন্য সুন্দর ভাষায় কাউকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করুন। ওনারা তখন বলবেন – নিজে কোনো কাজ করেনা অথবা কিছুই জানেনা, তাই বিনয় ছাড়া তার আর উপায় কি? আবার নিজে বেশী বেশী কাজ করে সংশ্লিষ্টদের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করুন, সময়মতো ফিডব্যাক দিন, বারংবার গাফিলতির জন্য কিছুটা ক্ষুব্ধ স্বরে কথা বলুন – আপনার অনপস্থিতে তখন তারা আপনার সম্পর্কে যতো মন্দ গালি কিংবা উক্তি আছে তা চারপাশে বলে বেড়িয়ে জ্বালা মেটাবে!
পরনিন্দা বা পরচর্চা দলে যোগ না দিলে আপনার পেছনে তারা আপনার পোস্টমর্টেম করে ছাড়বে। আবার এই গ্রুপে যোগ দিয়ে সরল বিশ্বাসে কারো সম্পর্কে কিছু বলুন, বাতাসের আগেই তিলকে তাল বানিয়ে সে ব্যক্তির কাছে তারা সেই খবর পৌছে দিয়ে শুভাকাঙ্খী সাজার চেষ্টা করবে, আর তার কাছে আপনার ইমেজের বারোটা বাজিয়ে ছাড়বে।
তাই বাকা লোকদের বাকা কথা আমলে না নিয়ে নিজের তরিকায় চলার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, সবখানেই কিছু মানুষ এমন থাকবেই – তবে বেশীরভাগ মানুষই আসলে ভালো। তাই কারো এহেন আচরণে মন খারাপ করবেন না। নিজের সম্মান নিজের কাছে বজায় রাখার চেষ্টা করাটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এতে অন্তত নিজের কাছে স্বস্তি পাবেন।
ঘরে-বাইরে এমন সব ব্যক্তির আচরণে যদি খুব বেশী কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে তা মনে পুষে না রেখে সম্ভব হলে শান্তভাবে তাকে বা তাদেরকে বুঝিয়ে বলুন, কিন্তু প্রকাশ করুন। এতে অনেকটা হালকা লাগবে। তবে তৃতীয় কাউকে নাক গলানোর সুযোগ না দেয়াই শ্রেয়। খোলামেলা আলোচনায় অনেক সময় কঠিন সমস্যারও সমাধান সম্ভব। যদি তা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে এসব দুষ্টলোকের কথায় কান না দিয়ে নিজের মতো চলুন। তাদের কথা পাত্তা না দিলে তার দহন আপনার নয়, বরং তাদেরই বেশী পোড়াবে!
সবশেষে এ কথাটি মনে রাখা ভালো- যে কোনো সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো রাখার বড় ঔষধ হলো, শত্রু-মিত্র সবার কাজেরই প্রশংসা করা। প্রশংসা শুনতে সবাই পছন্দ করে। এতে হয়তো আপনার গায়ে অনেকে ‘তেলবাজি’র তকমা লাগাতে পারে, তবে এর ফলে সকল পক্ষের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকবে এবং আগামীতে আপনার কাজেও হয়তো অনেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে! তবে সেইসাথে এ কথাটি নিশ্চিন্তে বলার অবকাশ নেই যে, খুঁতবাজ বা মতলববাজরা এর ফলে বিশুদ্ধ মানুষে রুপান্তরিত হয়ে যাবে! প্রবাদবাক্যে অকারণেতো আর এ কথাটি আসেনি – ‘কয়লা ধুলেও ময়লা যায়না’!
মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ
সমাজ বিশ্লেষক ও গবেষক।
খবরওয়ালা/এসআর