খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ফুটবল খেলার মাঠে গরুর বাছুর ঢুকে পড়ার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (১৭) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. মুসা স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ছেলে। গত শনিবার বিকেলে সংঘটিত এই হামলার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
গত ২৫ এপ্রিল, শনিবার বিকেলে তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের হরিণখোলা মাদ্রাসা মাঠে একদল কিশোর ফুটবল খেলছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হরিণখোলা কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের ছেলে মো. মুসাও ওই দলে ছিল।
একই সময়ে স্থানীয় মৃত ইদ্রিস খলিফার ছেলে হযরত আলী মাঠের পাশের রাস্তা দিয়ে তার গবাদিপশু নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় আকস্মিকভাবে একটি বাছুর দৌড়ে খেলার মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ে, যা খেলায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটায়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. মুসা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হযরত আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলার সময় অত্যন্ত নৃশংসতা প্রদর্শন করা হয়। ঘটনার পর্যায়ক্রমিক বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
শারীরিক লাঞ্ছনা: প্রথমে অভিযুক্ত মুসা হযরত আলীকে ধরে মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুরের পাকা ঘাটে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে উপর্যুপরি আছাড় দেয়।
গুরুতর আঘাত: আছাড় দেওয়ার পর তাকে কিল-ঘুষি ও উপর্যুপরি লাথি মারা হয়, যার ফলে তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে গুরুতর চোট লাগে।
উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা: স্থানীয়রা আহত হযরত আলীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তবে শনিবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।
হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু: রোববার সকালে স্বজনরা তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
| বিষয় | তথ্য |
| নিহতের নাম | হযরত আলী (১৭) |
| পিতার নাম | মৃত ইদ্রিস খলিফা |
| অভিযুক্তের নাম | মো. মুসা |
| অভিযুক্তের পরিচয় | প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের ছেলে |
| ঘটনার স্থান | হরিণখোলা মাদ্রাসা মাঠ, তালতলী, বরগুনা |
| ঘটনার সময় | ২৫ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল |
| মৃত্যুর সময় | ২৬ এপ্রিল (রোববার) দুপুর |
| হাসপাতাল | তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |
নিহত হযরত আলীর মা আসিয়া বেগম ছেলের শোকে মুহ্যমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হযরত আলী ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান এবং পরিবারের অত্যন্ত দরিদ্র অবস্থায় তারা জীবনযাপন করছিলেন। নিহতের চাচা ইউনুস খলিফা জানান, খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে এসে হযরত আলীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ও তার পরিবার পলাতক থাকতে পারে। তবে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পুলিশ দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।