খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তামা ও পিতলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগেই দাম সমন্বয় করেছে। সাধারণত মৌসুম শুরুর দিকে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়লেও এবার বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি। উৎপাদকেরা বলছেন, কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ব্যয় বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ। বিশেষ করে মোটরে ব্যবহৃত তামার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ এবং তারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। অ্যালুমিনিয়ামজাত উপকরণের মূল্যও ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিম্নে কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিলিং পাখার আগের ও বর্তমান খুচরা মূল্যের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| ব্র্যান্ড | আগের মূল্য (টাকা) | বর্তমান মূল্য (টাকা) | মূল্যবৃদ্ধি (টাকা) |
|---|---|---|---|
| বিআরবি | ৩,২০০ | ৩,৮৫০ | ৬৫০ |
| আরএফএল | ৩,১০০ | ৩,৫০০ | ৪০০ |
| যমুনা | ৩,০০০ | ৩,৪০০ | ৪০০ |
| ওয়ালটন | ২,৬০০ | ৩,১০০ | ৫০০ |
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ১,৮০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে পাখার বিক্রি সবচেয়ে বেশি। দেশীয় ব্র্যান্ডের পাখাই এখন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ, কারণ আমদানিকৃত পাখার দাম ৬,০০০ টাকার বেশি হওয়ায় তা অনেকের নাগালের বাইরে।
বর্তমানে দেশে মোট চাহিদার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সিলিং পাখা দেশেই উৎপাদিত হয়। শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে যমুনা, আরএফএল, ওয়ালটন, বিআরবি, কনকা ও এনার্জিপ্যাক। শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশে সিলিং পাখার বার্ষিক চাহিদা ৫০ থেকে ৬০ লাখ। গড় মূল্য আড়াই হাজার টাকা ধরলে শুধু সিলিং পাখার বাজারের আকার দাঁড়ায় প্রায় ১,২৫০ কোটি থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, টেবিল, স্ট্যান্ড, দেয়াল ও চার্জার পাখা যুক্ত করলে মোট বাজার দুই হাজার কোটি টাকার কম নয়। প্রতিবছর এই খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপরও। সম্প্রতি কারওয়ান বাজারে দুই হাজার টাকার মধ্যে পছন্দসই পাখা না পেয়ে এক ক্রেতাকে ২,১০০ টাকায় অপ্রচলিত ব্র্যান্ডের পাখা কিনতে দেখা গেছে। তিনি দামের ঊর্ধ্বগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও বিকল্পের অভাবে কিনতে বাধ্য হন।
বিশ্লেষকদের মতে, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন গ্রীষ্মে পাখার বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে উৎপাদকেরা আশাবাদী, বাড়তি দামের প্রভাব বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।