খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট ২০২৫
দখলদার ইসরায়েলের অব্যাহত বর্বর হামলা ও অবরোধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। রবিবার (৩ আগস্ট) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে গাজার অর্থনীতি। নগদ অর্থের চরম সংকটে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে তাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে, যেখানে দালালদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে তারা।
গাজার বাসিন্দা ও উদ্বাস্তু সাবের আহমেদ আলজাজিরাকে বলেন, ‘কেউ যদি ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে চান, তাহলে তাকে দালালের সাহায্য নিতে হয়। এসব দালাল ১০০ শেকেল উত্তোলনে নিজেরা ৪০ শেকেল রেখে দিচ্ছে।’ অর্থাৎ একজন মানুষ ব্যাংকে নিজের যে অর্থ আছে তা থেকে মাত্র ৬০ শতাংশ পাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি ১০০০ শেকেল তুলেন, হাতে পাবেন ৬০ শেকেল, যা ২০০ ডলারের চেয়েও কম। অথচ এই টাকায় এখন ২ কেজি মসুর ডাল আর ১ কেজি আটা কেনাও সম্ভব নয়। প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেই আমার ৩০০ ডলারের মতো লাগে।’ উল্লেখ্য, ২০০ ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার টাকার সমান।
ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার ফলে গাজায় এখনো সীমিত পরিমাণ পণ্য পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছিল, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সামরিক অভিযান স্থগিত থাকবে। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই বিরতির কোনো বাস্তব প্রভাব পড়েনি। গাজায় যেসব সহায়তা ট্রাক ঢুকছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
এদিকে, পুরোনো নোট নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন অনেকেই। গাজার বাসিন্দা মারিয়াম হাসান বলেন, ‘আমি ১০০ শেকেলের একটি পুরোনো, স্কচটেপ মারা নোট নিয়ে বাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো দোকানি তা নিতে রাজি হয়নি। এখন আমি কী করব?’
খবরওয়ালা/এন