আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রাণসামগ্রী বহনকারী নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার একটি জলযান ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে জাহাজটি ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আরও তেইশটি জাহাজ পথে রয়েছে এবং সেগুলোও খুব শীঘ্রই গাজার জলসীমায় পৌঁছাবে। আল জাজিরার সূত্র।
প্রতিবেদন অনুসারে, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার লাইভ ট্র্যাকার দেখাচ্ছে যে মিকেনো নামের একটি জাহাজ বর্তমানে গাজার জলসীমার ভেতরে আছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এটি দখল করেছে কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। বর্তমানে মোট চব্বিশটি জাহাজ গাজার দিকে যাচ্ছে। ইসরায়েলি নৌসেনারা জলযানগুলোকে জব্দ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা স্থানীয় সময় বুধবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে ইসরায়েলি প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। বহরের বেশ কিছু জাহাজ থামিয়ে তাতে উঠে পড়ে ইসরায়েলি নৌসৈন্যরা। জাহাজগুলো থেকে পরিচালিত সরাসরি সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে, নৌযানগুলোতে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের আটক করে সেখানেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক পোস্টে জানিয়েছে যে, আটককৃতদের ইসরায়েলের একটি নৌবন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নৌবহরের অন্তত ৪০টি জাহাজ ইসরায়েলি নৌবাহিনী জব্দ করেছে। জাহাজগুলোতে থাকা পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাকর্মীকে আটক করে ইসরায়েলের একটি বন্দরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এদিকে, ফ্লোটিলা নৌবহরকে বাধা দেওয়া এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তুরস্ক এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে।
ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক প্রধান এবং বর্তমান ইয়োর পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। আর ফ্রিডম ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ নৌবহরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও কয়েকজনকে আটক করাকে অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গাজামুখী ত্রাণ বহর আটকে দেওয়ায় ইতালিতে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। রাতে দেশটির রাজধানী রোমের রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। ইতালির বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়ন শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এছাড়া জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিস সহ আরও কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন