আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখে রওনা হওয়া নৌবহরে আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামক ওই নৌবহরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের কিছু জলযানে ইসরায়েলি সৈন্যরা অবস্থান নিয়েছে এবং জলযানগুলোতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলি সেনারা বেআইনিভাবে জলযানগুলোতে চড়াও হচ্ছে। নৌযানগুলোতে থাকা সকল অংশগ্রহণকারীর অবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সচেষ্ট আছি।” ফ্লোটিলা এই মুহূর্তে ভূমধ্যসাগরে গাজা থেকে ২১৮ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
এই আক্রমণের আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা ফ্লোটিলার জলযানগুলোকে গতিপথ বদলে ইসরায়েলের আশদদ বন্দরের দিকে যেতে নির্দেশ দিচ্ছেন। সেখানে নৌবহরে থাকা সাহায্যসামগ্রী গাজায় পৌঁছানোর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
ফ্লোটিলায় এমন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বুধবার রাতেই নৌবহরটি জানিয়েছিল যে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ২০টির বেশি জাহাজ দৃশ্যমান হয়েছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই ইসরায়েলি সৈন্যরা নৌবহরে চড়াও হতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই আক্রমণের খবর নিশ্চিত হয়।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে গাজায় ত্রাণ সরবরাহের একটি আন্তর্জাতিক প্রয়াস। এই বহরে রয়েছে চল্লিশটিরও বেশি অসামরিক জলযান। এই বহরে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আইনি বিশেষজ্ঞ, অধিকার রক্ষাকারী, ডাক্তার এবং সংবাদকর্মী।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার প্রথম বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা করে। এরপর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর তিউনিসিয়া ও ইতালির সিসিলি দ্বীপ থেকে আরও জলযান এতে যোগ দেয়। এছাড়া গ্রিসের সাইরাস দ্বীপ থেকেও পরবর্তীতে কিছু জলযান সাহায্যসামগ্রী নিয়ে এই বহরে যুক্ত হয়। সব মিলিয়ে বহরের জাহাজের সংখ্যা পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ইসরায়েলি ড্রোন আক্রমণে অকার্যকর হয়ে যাওয়া এবং যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে পরবর্তীতে এই সংখ্যা চল্লিশে নেমে আসে। সূত্র: আল-জাজিরা
খবরওয়ালা/টিএসএন