গাজীপুরের সদর উপজেলার পিরুজালী মধ্যপাড়া গ্রামে এক গৃহকর্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘর থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আসমা আক্তার (৫৫) ওই এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমানের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ডাকাত দল বাড়িতে প্রবেশ করে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসমা আক্তারের স্বামী আনিসুর রহমান স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত এবং তাঁদের ছেলে নাজমুল সাকিব একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার রাতে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তারকে বেঁধে ফেলে। এরপর পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে বাধা দিলে হামলাকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গৃহকর্ত্রী আসমা আক্তারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘর তছনছ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর সকালে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অচেতন অবস্থায় থাকা আরিফা আক্তারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নিম্নে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| ঘটনা |
গৃহকর্ত্রীকে হত্যা ও লুটপাট |
| স্থান |
পিরুজালী মধ্যপাড়া, গাজীপুর সদর |
| সময় |
গত মঙ্গলবার গভীর রাত |
| নিহত |
আসমা আক্তার (৫৫) |
| আহত/অচেতন |
আরিফা আক্তার |
| লুট হওয়া সম্পদ |
নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার |
| সন্দেহ |
ডাকাতি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড |
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, মধ্যরাতে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র ডাকাতির ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
এদিকে নিহত আসমা আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকে রাতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।