খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে মাঘ ১৪৩২ | ১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুরের গাছা এলাকায় একটি তুচ্ছ বিবাদের জেরে প্রকাশ্যে এক নারী ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রধান আসামি ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা আশিক ইসলামকে (২৭) ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত ব্যবসায়ীর নাম রানু বেগম (৪০)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার মাইজবাগ গ্রামের মো. হিরোনের স্ত্রী। গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকায় ভাড়া থাকতেন রানু বেগম এবং স্থানীয় দুলাল মার্কেটে ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামের কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের ব্যবসার পাশাপাশি সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেনও করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রানুর সঙ্গে একই এলাকার মুদিদোকানি নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন এর মধ্যে পাওনা টাকার বিষয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে রানু বেগম নজরুল ইসলামকে কথা কাটাকাটি করে গালাগাল করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে রানুর ওপর হামলা চালান। হামলার সময় রানুর ছেলে হৃদয় মিয়া ও স্থানীয় যুবক ওসমান হোসেন এগিয়ে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করা হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রানুকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলের দিকে তিনি মারা যান। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। পরে রাত দুইটার দিকে আশিককে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ও মামলার তথ্য :
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তারকৃত আসামি | আশিক ইসলাম ওরফে স্বপন (২৭) |
| বাবার নাম | নজরুল ইসলাম |
| পেশা | সাবেক সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদল (৩৫ নম্বর ওয়ার্ড) |
| ঘটনার স্থান | গাছা থানা, পশ্চিম কলমেশ্বর, গাজীপুর |
| নিহত | রানু বেগম (৪০), ব্যবসায়ী |
| হাসপাতালে মৃত্যু | ১ ফেব্রুয়ারি বিকেল, ২০২৬ |
| মামলা দায়েরকারী | হৃদয় মিয়া (নিহতের ছেলে) |
| বর্তমান অবস্থান | আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে |
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, “আমরা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি বর্তমানে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নন।”
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রানু বেগম ছিলেন এলাকার একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী ও দায়িত্বশীল মা; তার আকস্মিক মৃত্যু স্থানীয় জনগণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।