খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর-৩ আসনে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন। রাজপথের মিছিলে বা পাড়া-মহল্লার গণসংযোগে প্রার্থীর এমন রণসজ্জা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি, ২০২৬) গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর এই ব্যতিক্রমী প্রচারণার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
গাজীপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলন (প্রতীক: ঘোড়া) অভিযোগ করেছেন যে, নির্বাচনী মাঠে নামার পর থেকেই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবং প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতে তিনি এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছেন। মিলনের ভাষ্যমতে, “নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ নেই। বারবার হুমকি পাওয়ার পর আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি, কিন্তু নিজের জীবন রক্ষা করতে এখন নিজেকেই আগাম প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।”
ইজাদুর রহমান মিলনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রোফাইল:
| তথ্যের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রার্থীর নাম | ইজাদুর রহমান মিলন। |
| নির্বাচনী আসন | গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর আংশিক)। |
| নির্বাচনী প্রতীক | ঘোড়া। |
| পূর্বতন রাজনৈতিক পদ | সাবেক সভাপতি, গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপি। |
| জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা | সাবেক চেয়ারম্যান, গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ। |
| বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা | বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা (২০২৪ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে)। |
| নিরাপত্তা সরঞ্জাম | ব্যক্তিগতভাবে সংগৃহীত বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। |
ইজাদুর রহমান মিলন গাজীপুর জেলা রাজনীতির একজন পরিচিত মুখ। দীর্ঘ সময় তিনি গাজীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০২৪ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবারের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির একটি বড় অংশ এবং তাঁর ব্যক্তিগত অনুসারীরা ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে বিধায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
প্রার্থীর এমন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে প্রচারণার বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাঁরা জানান, যেকোনো প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে ব্যক্তিগতভাবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আইনগত বিধিনিষেধ নেই। গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, “আমরা নির্বাচনী এলাকায় টহল জোরদার করেছি। প্রার্থী যদি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকির অভিযোগ দেন, তবে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” এদিকে ভোটারদের কেউ কেউ বিষয়টিকে প্রার্থীর ‘নিরাপত্তা শঙ্কা’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ একে ‘দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল’ বা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবে মনে করছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের ব্যবহার বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে বিরল। এটি গাজীপুর-৩ আসনের নির্বাচনী লড়াই কতটা উত্তপ্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, হুমকি-ধমকির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসন একটি নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে প্রার্থীরা নির্ভয়ে জনগণের কাছে যেতে পারবেন।