খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হায়দার হোসেনের মৃত্যুর খবর নিয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ, পেজ এবং কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়লে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এই খবরটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘মৃত্যুর গুজব’ বলে নিশ্চিত করেছেন শিল্পী নিজেই। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন এবং নিজ বাসভবনেই অবস্থান করছেন।
শনিবার রাতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে হায়দার হোসেন নিজের বেঁচে থাকার খবর নিশ্চিত করেন এবং গভীর বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সন্ধ্যা থেকে একের পর এক ফোন আসায় তিনি এক প্রকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। শিল্পী বলেন, “কী যে ঝামেলায় পড়েছি! সন্ধ্যা থেকে ফোন রাখতে পারছি না। আমি পুরোপুরি সুস্থ ও ভালো আছি।” মানুষের মৃত্যু নিয়ে এ ধরনের অপপ্রচারকে অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
হায়দার হোসেন কেবল একজন গায়ক নন, তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংগীতের আঙিনায় আসার আগে তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে একজন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৯ সাল থেকে পেশাগতভাবে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই গুণী মানুষটি জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘উইনিং’–এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর দীর্ঘ সংগীত জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| পুরো নাম | হায়দার হোসেন |
| পেশাগত শুরু | প্রকৌশলী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী |
| সংগীতে অভিষেক | ১৯৭৯ সাল |
| ব্যান্ড সংশ্লিষ্টতা | প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নামকরণকারী, ব্যান্ড ‘উইনিং’ |
| বিখ্যাত একক গান | ৩০ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি, আমি ফাইসা গেছি |
| ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান | মন কী যে চায় বলো (উইনিং) |
| সহযোগী শিল্পী | সুরকার আলম খান ও পপসম্রাট আজম খান |
হায়দার হোসেন এর আগে কয়েকবার বার্ধক্যজনিত ও হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, যা হয়তো বর্তমান গুজবটি ছড়াতে ইন্ধন যুগিয়েছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন তিনি প্রথমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর হৃদপিণ্ডে দুটি রিং পরানো হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের জুনে তিনি পুনরায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তখন তাঁর হার্টে আরও একটি রিং (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বড় ধরনের কোনো স্বাস্থ্যগত অবনতির খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো তথ্য যাচাই না করে শেয়ার করার প্রবণতা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। হায়দার হোসেনের মতো একজন দেশবরেণ্য শিল্পীর ক্ষেত্রে এমন মিথ্যা সংবাদ প্রচার কেবল তাঁর পরিবারকেই কষ্ট দেয় না, বরং দেশের লাখো ভক্তকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমানে শিল্পী সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত এবং তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখছেন।