খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
গুমের ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এতে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সেনা সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ডেপুটেশনে (প্রেষণে) অন্য সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন, যেগুলো সরাসরি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গুমে জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে ‘মব’ তৈরি করে হেনস্তার ঘটনায় চিহ্নিত ছয়জনের মধ্যে একজনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান কর্নেল শফিকুল।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আইনগত প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। জামিন পাওয়ার পর তার বিষয়ে সেনাবাহিনীর কিছু করার থাকে না। তবে ভবিষ্যতেও যদি কোনো ব্যক্তি মব ভায়োলেন্স ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিতে জড়িত থাকে, তাহলে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।’
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উভয় ঘটনায় সেনাবাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় সেনাবাহিনী প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে।’
জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় বিষয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন নীতিনির্ধারকেরা। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দেশনা দেয়নি। তবে নির্দেশনা পেলে আমরা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’
তিনি আরও জানান, গত ৫ আগস্টের সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের ৮০ শতাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশও নির্বাচনের আগে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
এদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সেনাবাহিনীর চলমান আভিযানিক কার্যক্রম সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে আজকের এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযানে গত দুই সপ্তাহে সেনাবাহিনী ২৬টি অবৈধ অস্ত্র ও ১০০ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে।
গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৬৯২টি অবৈধ অস্ত্র ও ২ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৪৬ জনকে। এর মধ্যে কিশোর গ্যাং, তালিকাভুক্ত অপরাধী, ডাকাতসহ অন্যান্য অপরাধী রয়েছে। এ পর্যন্ত মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৫ হাজার ৫২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ইউপিডিএফের একটি ক্যাম্প ধ্বংস করেছে। রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে একজন সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধও হয়েছেন। সেনাবাহিনীর অভিযানের ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এর ফলে কেএনএফের (কুকি–চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) ভয়ে নিজেদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া বান্দরবানের ১৩৮ জন বম উপজাতি ফিরে এসেছেন। সেনাবাহিনী তাঁদের সর্বাত্মক সহায়তা করছে।
আজ ভোরে পার্বত্য চট্টগ্রামে কেএনএর (কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি) বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে সংগঠনটির দুজন সদস্য নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গতকাল বুধবার রাত থেকে পরিচালিত অভিযানে আজ ভোরে কেএনএফের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে কেএনএফের একজন ‘মেজর’ পদবীর কমান্ডার নিহত হয়েছেন। অভিযানে ৩টি অত্যাধুনিক এসএমজি, ১টি চায়নিজ রাইফেল, ৩৬৪টি গুলিসহ বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জামাদি ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি চলমান আছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
খবরওয়ালা/আরডি