জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ভারতের কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে, বিশেষ করে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন বটে, তবে তার শারীরিক ঝুঁকি এখনও কাটেনি।
বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন। শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগসহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি নিয়মিত চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা যায়। কলকাতার নিউ টাউনে অবস্থানকালে তার বাসাতেই অক্সিজেন সহায়তায় চিকিৎসা চলছিল। তবে গত শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। বিশ্বস্ত সূত্রের ভাষ্যমতে, সে সময় তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় চলে যান। পরে জরুরি ভিত্তিতে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ভর্তি করানোর পরপরই তাকে ভেন্টিলেশনে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তার অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বুলেটিন প্রকাশ না করলেও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বয়স ও দীর্ঘদিনের জটিল রোগের কারণে তার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
রাজনৈতিক দিক থেকে ওবায়দুল কাদের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছিলেন আলোচিত ও বিতর্কিত এক ব্যক্তিত্ব। গত জুন মাসে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে এখনও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তখনই জানান যে তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর টানা তিন মাস তিনি দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমননীতির জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তখন মন্তব্য করেন, দেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ তৈরি হলে ক্ষমা চাওয়া, ভুল স্বীকার বা অনুশোচনার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে।
ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাস থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
নিচের সারণিতে ওবায়দুল কাদেরের সাম্প্রতিক অবস্থা ও রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বর্তমান অবস্থান | অ্যাপোলো হাসপাতাল, কলকাতা |
| শারীরিক অবস্থা | সংকটাপন্ন, ভেন্টিলেশনে |
| হাসপাতালে ভর্তি | ২ জানুয়ারি |
| রাজনৈতিক পদ | আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক |
| সাধারণ সম্পাদক পদে শুরু | অক্টোবর ২০১৬ |
| মন্ত্রীত্বকাল | ডিসেম্বর ২০১১ – আগস্ট ২০২৪ |
| দেশ ত্যাগ | নভেম্বর ২০২৪ |
এই মুহূর্তে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি বা অবনতির দিকেই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।



