খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে এই জামিন প্রদান করা হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩-এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় আসামির জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে সাফিকুর রহমানের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. খোরশেদ আলম। শুনানিকালে তিনি আদালতকে জানান যে, তার মক্কেল একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং দেশের একটি বৃহৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন ছিলেন। জামিন আবেদনে আসামির বর্তমান শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা শেষে আদালত জামিনের আদেশ প্রদান করেন। তবে মামলার অন্য তিন আসামি—সাফিকুরের স্ত্রী বীথি এবং দুই গৃহকর্মী রূপালী খাতুন ও মোছা. সুফিয়া বেগম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা একজন হোটেল কর্মচারী। জনৈক নিরাপত্তাপ্রহরী জাহাঙ্গীরের মাধ্যমে তিনি সাফিকুর রহমানের বাসায় তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে কাজে দেন। সে সময় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, শিশুটির যাবতীয় দায়িত্ব ও বিয়ের খরচ তারা বহন করবেন। কিন্তু কাজে দেওয়ার কয়েক মাস পর থেকেই পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করে।
বাদীর অভিযোগ অনুসারে, ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর তিনি শেষবার তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখেছিলেন। এরপর বারবার দেখা করতে চাইলেও গৃহকর্তার পরিবার বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বাধা প্রদান করে। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আকস্মিকভাবে সাফিকুরের স্ত্রী বীথি ফোন করে জানান যে শিশুটি অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যায় বাসার বাইরে শিশুটিকে তার বাবার হাতে হস্তান্তর করা হয়।
শিশুটিকে ফিরে পাওয়ার পর তার বাবা লক্ষ্য করেন যে, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। শিশুটি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিল না। পরবর্তীকালে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর থেকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তুচ্ছ কারণে তাকে নিয়মিত মারধর করতেন। এমনকি উত্তপ্ত খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ২ ফেব্রুয়ারি উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে সাফিকুর রহমানসহ চারজনকে আটক করে এবং ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এই অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার সাফিকুর রহমানকে বিমানের এমডি পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান আসামি | সাফিকুর রহমান (সাবেক এমডি, বিমান বাংলাদেশ) |
| অন্যান্য আসামি | স্ত্রী বীথি, গৃহকর্মী রূপালী ও সুফিয়া |
| ভিকটিম | ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী |
| অভিযোগের ধরন | মারধর ও গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া |
| মামলার তারিখ | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ |
| আটকের তারিখ | ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ |
| আদালতের রায় (বর্তমান) | সাফিকুর রহমানের ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন |
| বর্তমান অবস্থান | সাফিকুর রহমান জামিনে, বাকি ৩ আসামি কারাগারে |
নির্যাতনের এই ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং প্রশাসনিক স্তরেও এর প্রভাব পড়ে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের জামিন বিষয়ে পরবর্তী শুনানির ওপর আদালতের সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। আদালত এই মামলাটিকে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।