খবরওয়ালা বিশেষ প্রতিবেদন
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি হচ্ছে যাকাত। যাকাত একটি নির্দিষ্ট ইবাদত এবং এটি দানের মতো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ নয়। বরং এটি অভাবগ্রস্তদের জন্য একটি নির্ধারিত অধিকার। যাকাত ধনী মুসলমানদের জন্য ফরজ এবং সমাজের গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তার অন্যতম মাধ্যম।
শরিয়ত অনুসারে, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের উপর নির্দিষ্ট হার অনুযায়ী (সাধারণত ২.৫%) বার্ষিক দান করা বাধ্যতামূলক যাকে যাকাত বলা হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:”নিশ্চয়ই সদকা (যাকাত) কেবল দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত, যাদের হৃদয় আকৃষ্ট করতে হয়, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আত-তাওবা: ৬০)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন:”তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থীর ও বঞ্চিতের অধিকার।” (সূরা আদ-ধারিয়াত: ১৯)
হাদিসের দৃষ্টিকোণ:
১. যদি যাকাত প্রাপক জানতেই না পারেন যে তিনি যাকাত গ্রহণ করছেন, তাহলে নিয়তের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। (সহিহ বুখারি: ১, সহিহ মুসলিম: ১৯০৭)
২. রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:”আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির যাকাত কবুল করেন না, যে তা না দিয়ে আটকে রাখে।” (সহিহ মুসলিম: ৯৮৭)
ইসলামি স্কলারদের মতামত:
১. অধিকাংশ ফকিহদের মতে (হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি)
* যাকাত গ্রহীতা যদি না জানে যে এটি যাকাত, তাহলে এটি গ্রহণ করার পরে যদি সে এমন কাজে ব্যয় করে যেখানে যাকাত বৈধ নয়, তাহলে যাকাতদাতার ফরজ আদায় হবে না। তাই যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কমপক্ষে এমনভাবে দেওয়া উচিত যাতে সে বুঝতে পারে এটি কোনো দানের অংশ। তবে সরাসরি “এটি যাকাত” বলতে না চাইলেও কৌশলে জানানো যেতে পারে।
২. কিছু সমসাময়িক স্কলারের মতামত- বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক সম্মানিত দরিদ্র ব্যক্তি আছেন, যারা যাকাতের টাকা নিতে সংকোচ করেন। তাদের সম্মান রক্ষা করতে গোপনে বা অন্য কোনো নাম দিয়ে (উপহার, অনুদান ইত্যাদি) দেওয়া যেতে পারে, তবে যাকাতদাতার নিয়ত অবশ্যই যাকাত হওয়া দরকার। যাকাতের নিয়ত না থাকলে সেটি স্বাভাবিক দান হিসেবে গণ্য হবে।
অতএব, যাকাত গোপনে দেওয়া যাবে, তবে নিশ্চিত করতে হবে যে এটি যথাযথ খাতে ব্যয় হবে এবং প্রাপক উপযুক্ত ব্যক্তি।
খবরওয়ালা/এমবি