খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে যুক্ত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মাত্রা। এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক মামলার বেড়াজালে বন্দি থাকলেও তাঁরা পিছু হটেননি; বরং কারাগার থেকেই ভোটের মাঠে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম এবং গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী কাবির মিয়া—এই দুই নেতার অংশগ্রহণ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নতুন কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম, যাঁর নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল’, বর্তমানে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে আদালত থেকে জামিন লাভ না করলে তিনি কারাগারের ভেতর থেকেই তাঁর সমর্থকদের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচন পরিচালনা করবেন। হলফনামায় তিনি নিজের বিরুদ্ধে চারটি বিচারাধীন মামলার তথ্য প্রদান করেছেন।
অন্যদিকে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী কাবির মিয়া, যাঁর প্রতীক ‘ট্রাক’, বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা থাকলেও উচ্চ আদালত তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে মুক্তি না পেলে তিনি ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়েই কারাপ্রাচীরের ওপার থেকে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের কারাবন্দি প্রার্থীদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
| প্রার্থীর নাম | রাজনৈতিক দল/পরিচয় | নির্বাচনী প্রতীক | বর্তমান অবস্থান | মামলার সংখ্যা |
| আশ্রাফুল আলম | স্বতন্ত্র প্রার্থী | ফুটবল | কেরানীগঞ্জ কারাগার, ঢাকা | ৪টি |
| কাবির মিয়া | গণঅধিকার পরিষদ | ট্রাক | কাশিমপুর কারাগার, গাজীপুর | ৭টি |
উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী যাত্রার শুরুটা সহজ ছিল না। প্রাথমিক পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। এরপর তাঁরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আশ্রাফুল আলমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষিত হলেও কাবির মিয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে।
গোপালগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের আদেশের কপি দেরিতে পৌঁছানোর কারণে কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্রের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়ালেও এই দুই কারাবন্দি প্রার্থীর অনুসারীরা দমে যাননি। প্রার্থীরা সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পোস্টার-ব্যানারে তাঁদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচন করা একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে এটি ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের একটি কৌশলও হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে প্রতীক বনাম প্রতীকের যুদ্ধে কারা এগিয়ে থাকবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে একই আসন থেকে দুজন প্রভাবশালী প্রার্থীর এমন অবস্থান নির্বাচনী উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই দুই প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের আইনি ফয়সালা কী হয় এবং মুকসুদপুর-কাশিয়ানী এলাকার মানুষ তাঁদের কতটা গ্রহণ করে, তা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলই নিশ্চিত করবে।