খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুরে অবস্থিত জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া কওমিয়া মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দুই মাদরাসাছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তারা বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদ্বয় মিরাজ (১২) ও রাব্বি (১৩) মাদরাসার মসজিদে ঘুমাচ্ছিলেন। ঘুমের মধ্যে মিরাজের পা হুজুর ইব্রাহিমের ভাগ্নে হুজাইফার গায়ে লেগে যায়। বিষয়টি চোখে পড়লে শিক্ষক ইব্রাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদ্বয়কে লাঠি ও মেহগনি গাছের চেলা দিয়ে বেধড়ক মারতে শুরু করেন। আহতরা জানান, মারধরের সময় রাব্বি শিক্ষককে কেন মারছেন তা জিজ্ঞাসা করলে আরও মারধর করা হয়।
আহত মিরাজের মা বলেন, “আমার ছেলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি ফিরেছে, শরীরে ধুলোবালি লেগে আছে। কী হয়েছে জানতে চাইলে জানায়, ঘুমের মধ্যে ভুলবশত হুজুরের ভাগ্নের গায়ে পা লেগে যাওয়ায় মারধর করা হয়েছে। এটি মানবিক নয়, সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আহত রাব্বির বাবা বজলুর রহমান বলেন, “আমার ছেলে ও তার সহপাঠীকে যে মাত্রায় নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছে, তা সহ্য করা যায় না। আগে এমন ঘটনার সাক্ষী রয়েছি। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই এবং মামলা করব।”
চিকিৎসক ডা. মেহেবুবা মুস্তারী মৌ জানিয়েছেন, “দুই শিক্ষার্থী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদূর রহমান বলেন, “পরিবারকে থানায় এসে অভিযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে শিক্ষক ইব্রাহিম ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/এমএজেড