খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
‘স্বামী নাই আট বছর হইল, মেয়েগুলারে বিয়া দিছি। এখন এক ছেলে আর আমি, নিজের জমিও নাই। মাইনষের জমিত থাকি। ছওয়াটা মাইনষের জমিত কাজ করে কোনো রকমে দিন চালাই। নতুন ঘর কেমনে তুলমো, সেই চিন্তাতেই এলা দিন কাটে। দুইটা ঘর দুইটাই ঘূর্ণিঝড় খাইল।’
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী আদর্শপাড়ার ৫৫ বছর বয়সী তহমিনা বেগম এসব কথা বললেন। তার দুইটি ঘর ঘূর্ণিঝড়ে মুহূর্তে উড়ে গেছে। বর্তমানে তিনি টাঙানো পলিথিনের নিচে জীবন যাপন করছেন।
রবিবার সকালে রংপুরের গঙ্গাচড়ার চারটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ঘূর্ণিঝড়। এতে উপজেলায় প্রায় ৮ শতাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার দিন কেটে গেলেও অধিকাংশ পরিবার এখনও নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে না। কেউ পলিথিনে টাঙানো তাবুতে থাকছেন, কেউবা প্রতিবেশীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন।
চর নোহালী আদর্শপাড়ার ৮৫ বছর বয়সী আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আট সন্তানের জনক, কিন্তু এখন পাশে শুধু স্ত্রী ছাড়া কেউ নেই। ঝড়ে দুইটি ঘর উড়ে যাওয়ার পর থেকে অন্যের ঘরে আশ্রিত। ছেলে-মেয়েরা সবাই আলাদা সংসার করে। কেউ খবরও নেয় না। বৃষ্টি হইলেই ভয় পাই, কই যাবো?’
মিনারুল ইসলাম (৪৫)ও ঝড়ের কবলে পড়েছেন। দুই ছেলে, দুই মেয়ে এবং শাশুড়িসহ ছয়জনের পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। তার দুইটি ঘরও ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘ঘর বানাবো কেমনে? সেই টাকাও নাই। শুধু মাথার ওপর কোনো ছাউনি চাই।’
আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহন গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬৫) সাত বছর আগে স্ত্রী হারিয়েছেন। ছেলে-বউমা ঢাকায় গার্মেন্টস কাজে থাকায় ১০ বছরের নাতি নিয়ে এক শতক জমির ওপর ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। ঘরটিও ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আকাশটা একবারে ভাঙি আসি সউগ উরি নিয়া গেল। মোর আর থাকার আশ্রয় নাই। টাকাও নাই যে ঘর তুলিম।’
এই পরিস্থিতি শুধু কিছু ব্যক্তির নয়; ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত নোহালী, আলমবিবিতর, কোলকোন্দ ও লক্ষীটারী ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ একই অবস্থা ভোগ করছেন। ঝড়ে ভাঙা ঘর, ভিজে যাওয়া চাল এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল, নগদ অর্থ এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। টিন ও আর্থিক সহায়তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/শরিফ