খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রাম বন্দরের প্রস্তাবিত নতুন মাশুল গত ২৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেও তা কার্যকর হওয়ার আগেই ব্যবহারকারীদের আপত্তির মুখে পড়ে। একসঙ্গে গড়ে ৪১ শতাংশ হারে মাশুল বাড়ানোর বিষয়ে তাদের আপত্তির কারণে গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নতুন মাশুল পর্যালোচনার জন্য আজ সোমবার বিকেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবহারকারীদের নিয়ে একটি সভা ডেকেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এতে সভাপতিত্ব করবেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন। বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রস্তাবিত ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত মাশুল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নতুন মাশুল কার্যকর হলে বন্দরের আয় গড়ে ৪১ শতাংশ বাড়বে। বন্দরের সব মাশুল ডলারে নির্ধারিত হওয়ায় ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে এই আয়ও বাড়বে।
বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ২০ ফুট লম্বা কনটেইনার থেকে গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা মাশুল আদায় করে। নতুন মাশুল কার্যকর হলে কনটেইনারপ্রতি অতিরিক্ত ৪ হাজার ৩৯৫ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে আমদানি কনটেইনারে মাশুল বাড়বে ৫ হাজার ৭২০ টাকা এবং রপ্তানি কনটেইনারে বাড়বে ৩ হাজার ৪৫ টাকা। কনটেইনারের পাশাপাশি সাধারণ পণ্যেও মাশুল বাড়বে, তবে তা কনটেইনারের তুলনায় কম। কনটেইনারসহ মোট পণ্যের হিসাবে, গড়ে প্রতি কেজিতে মাশুল বাড়বে ১৪ পয়সা।
মাশুল বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের আপত্তির কারণ হলো, একলাফে এত বেশি মাশুল বাড়ানো হলে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে এবং রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। এছাড়া ভবিষ্যতে বন্দরের বেশিরভাগ টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে চলে যাবে, ফলে মাশুল বাড়ানোর সুফল তারাই পাবে।
অন্যদিকে সরকারের ভাষ্য, ১৯৮৬ সালের পর মাশুল বাড়ানো হচ্ছে এবং নতুন মাশুল কার্যকর হলেও তা আশেপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম থাকবে। বিজিএমইএ পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, রপ্তানিকারকরা এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে চাপে আছেন, এখন নতুন করে মাশুল বাড়ালে তাদের সক্ষমতা কমবে। তিনি আরও বলেন, কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রপ্তানিতে দুই দফায় বাড়তি মাশুল যুক্তিসংগত নয়।
বর্তমানে প্রতি কনটেইনারে গড়ে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা মাশুল নেওয়া হয়, যা নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ১৬ হাজার ২৪৩ টাকায় দাঁড়াবে। অর্থাৎ মাশুল বাড়ছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এই হিসাব করা হয়েছে ডলারের বিনিময় মূল্য ১২২ টাকা ধরে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
কনটেইনার জাহাজের সেবা নেওয়ার জন্যও আলাদা মাশুল দিতে হয়। জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো বা নামানোর মাশুল ৪৩.৪০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৮ ডলার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে এই একটি খাতে প্রায় ৩ হাজার টাকা বাড়তি খরচ হবে।
বর্তমানে প্রতি কেজি কনটেইনার পণ্যে গড়ে ১ টাকা ২৮ পয়সা মাশুল দিতে হয়। প্রস্তাবিত মাশুল কার্যকর হলে তা বেড়ে ৪৭ পয়সা হবে। বন্দরের ৯৯ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কনটেইনার চট্টগ্রাম দিয়ে পরিবহন হওয়ায় এর প্রভাব ব্যাপক হবে।
বন্দরের হিসাবে, সব ধরনের পণ্যে কেজিপ্রতি মাশুল বাড়বে ১৪ পয়সা। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩৫ পয়সা মাশুল দিতে হয়। এতে মাশুল বাড়ছে ৪১ শতাংশ। সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজগুলো বন্দর সুবিধার খুব সামান্যই ব্যবহার করে, যেমন বাল্ক জাহাজের বেশিরভাগই সাগরে নোঙর করে পণ্য স্থানান্তর করে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট পণ্যের ৫৯ শতাংশ বহির্নোঙরে খালাস হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন