খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক নজিরবিহীন তল্লাশির মাধ্যমে দুবাই থেকে আসা চার যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট এবং আমদানিনিষিদ্ধ রং ফর্সাকারী ক্রিম জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ ২৪ হাজার টাকা। ঘটনা ঘটে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এ ধরনের অভিযান দেশের বাণিজ্যিক ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্ধারকৃত পণ্যের বিস্তারিত
| পণ্য | পরিমাণ | মন্তব্য |
| সিগারেট | ৮৬৭ কার্টন | একজন যাত্রী শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ এক কার্টন আনতে পারেন; এর বেশি আনা আইনত নিষিদ্ধ |
| রং ফর্সাকারী ক্রিম | ৫০ পিস (‘গৌরী’ ব্র্যান্ড) | পাকিস্তানে তৈরি; দেশে আমদানিনিষিদ্ধ; পারদ ও হাইড্রোকুইনোনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি |
উদ্ধারকৃত গৌরী ক্রিম পাকিস্তানে তৈরি এবং দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২০ সালে ৮টি রং ফর্সাকারী ক্রিম পরীক্ষা করে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ ও হাইড্রোকুইনোন থাকার তথ্য নিশ্চিত করে। এসব উপাদান দীর্ঘমেয়াদে চর্মরোগ, এলার্জি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এরপর গৌরী ক্রিমসহ সকল বিপজ্জনক ক্রিমের উৎপাদন, বিক্রি, বিপণন ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর নিয়ম অনুযায়ী একজন যাত্রী শুল্কমুক্তভাবে সর্বোচ্চ এক কার্টন সিগারেট আনতে পারেন। এর বেশি সিগারেট বা নিষিদ্ধ ক্রিম আনা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এছাড়া সিগারেটের প্যাকেটে “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর” লেখা থাকা বাধ্যতামূলক।
উদ্ধারকৃত যাত্রীরা ছিলেন:
তারা দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দকৃত পণ্যগুলো চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
পণ্যের স্বাস্থ্য ও আইনগত প্রভাব
পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, নিষিদ্ধ ক্রিম ব্যবহারে চর্মরোগ, এলার্জি এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া বেশি পরিমাণ সিগারেট আনা এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধ বিক্রি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি করতে পারে।
বাংলাদেশে চলতি বছরে বিভিন্ন বিমানবন্দরে একই ধরনের ঘটনা ঘটে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রীদের কাছ থেকে নিষিদ্ধ ক্রিম এবং সীমার বেশি সিগারেট জব্দ হয়েছে। এই ধরনের অভিযান কেবল আইন শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান নাগরিকদের মধ্যে আইন মেনে চলার মনোভাব এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কাস্টমসের তৎপরতার মাধ্যমে দেশে অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধ করা সম্ভব।
চলতি বছরের এ ধরনের অভিযান দেখাচ্ছে যে, দেশের কাস্টমস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তি ও তল্লাশির মাধ্যমে বাণিজ্যিক এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই উদ্যোগ দেশের বাজার ও জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী।