খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পরানজুরানিতে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ বলছে, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বনাঞ্চল থেকে সেগুনগাছ পাচারের সময় বাধা দিলে স্থানীয় একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে বিট কর্মকর্তা, ফরেস্টার, বন প্রহরীসহ অন্তত আটজন আহত হন।
বন বিভাগের অভিযোগ, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক। তিনি বর্তমানে ধোপাছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১৫–২০ জনের একটি দল পরানজুরানি এলাকার সংরক্ষিত বনের সেগুনগাছ কেটে নিচ্ছিল। খবর পেয়ে বিট কর্মকর্তা সুদত্ত চাকমার নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের ওপর দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফরেস্টার ইমন বিল্লা, প্রহরী আবু বক্কর সিদ্দিক, শুভ ইসলাম, প্রহরীদের তত্ত্বাবধায়ক মো. কুতুব প্রমুখ।
খবর পেয়ে ধোপাছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বনকর্মীদের উদ্ধার করেন।
দক্ষিণ বন বিভাগের দোহাজারী আঞ্চলিক কর্মকর্তা (এসিএফ) এ কে এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘বন উজাড়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে আমাদের লোকজন হামলার শিকার হন। মোজাম্মেল হক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা সেগুনগাছ পাচার করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছি।’
অন্যদিকে, মোজাম্মেল হক দাবি করেন, ‘কাটা গাছগুলো বন বিভাগের নয়, বরং স্থানীয় এক বাসিন্দার। বন বিভাগের লোকজন বাধা দিলে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। আমি পরে ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশে খবর দিই যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।’
চন্দনাইশ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, বন বিভাগ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধোপাছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার সিংহ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারির দৃশ্য না পেলেও বন বিভাগের লোকজনকে জামাকাপড় ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পাই। পরে তাঁদের উদ্ধার করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড