খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
চলন্ত ট্রেনে অপরাধীদের দাপট দিন দিন বেড়ে চলছে। আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। প্রচণ্ড ভিড়ে ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রাজশাহী রুটে রাতের ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের মোবাইল, মানিব্যাগ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ক্রমবর্ধমান।
প্রায় প্রতিদিনই একাধিক যাত্রী চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি টঙ্গী ও বিমানবন্দর স্টেশনের কাছে কয়েকজন যাত্রী জানান, একদল যুবক চলন্ত ট্রেনে উঠে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। প্রতিরোধের চেষ্টা করলে এক যাত্রীকে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী যাত্রী এবং রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ছিনতাইয়ের ধরন : সংশ্লিষ্টদের তথ্যে জানা যায়, দেশের আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। কখনও যাত্রী সেজে, আবার কখনও দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে যাত্রীদের ওপর চড়াও হচ্ছে ছিনতাইকারীরা। চেতনানাশক স্প্রে বা ইনজেকশন ব্যবহার করে অচেতন করে মালপত্র লুটের ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট কামরা টার্গেট করে অভিযান চালায়, ফলে চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ছিনতাইয়ের সময় ধস্তাধস্তি : চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় ১১ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে রেজাউল করিম নামে এক যাত্রীকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরদিন মুকুন্দপুর রেললাইনের পাশে তার লাশ উদ্ধার করে আখাউড়া রেলওয়ে পুলিশ। ১৬ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে মো. আমিনুর ইসলাম নামে এক যুবককে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সম্প্রতি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় আফতাব আহমেদ নামে এক তরুণকেও চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা।
রেলওয়ে পুলিশের দাবি, এসব ঘটনার পরও নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে চক্রটি খুবই সংগঠিত ও দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া যাত্রীরা নির্দিষ্ট অভিযোগ না করায় ব্যবস্থা নেওয়াও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
প্রতিরোধে তৎপর রেলওয়ে পুলিশ : ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার হোসেন জানান, ট্রেনকেন্দ্রিক ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ট্রেন ও স্টেশন উভয় জায়গাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি দুজন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার : ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আলাউদ্দিন (১৯) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা রেলওয়ে ডিবি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের চাকুর মুখে জিম্মি করে লুটের ঘটনায় আলাউদ্দিনকে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় নজরুল নামে আরেকজন ছিনতাইকারীকে লুণ্ঠিত মোবাইলসহ হাতেনাতে ধরা হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন