খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে উচ্চারিত এক অমর নাম চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। আধুনিক দৃশ্যমান শিল্পে তিনি যে নতুন রং, ভাষা ও বিন্যাসের সমন্বয় এনেছিলেন, তা আজ জাতির শিল্পঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে রয়েছে।
১৯৩২ সালের ৯ মার্চ ফেনী জেলায় এক অবক্ষয়ী জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা না থাকলেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবেশ ছিল শক্তিশালী, যা তাঁর সৃজনশীলতার ভিত্তি গড়ে দেয়।
তেল রং, জল রং, কালি-কলম, মোম রং ও রেশমছাপ—বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি অনন্য দক্ষতায় কাজ করেছেন। তাঁর শিল্পভাষায় জ্যামিতিক আকারের স্পষ্ট ব্যবহার ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। রঙিন পটভূমিতে দৃঢ় ও মোটা রেখার নকশা ছিল তাঁর স্বাতন্ত্র্য, যা দূর থেকেই চেনা যায়।
রঙের ব্যবহারে তাঁর দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়। লাল, নীল ও সবুজ—এই তিন রঙের প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁর ক্যানভাসকে দিত অনন্য দীপ্তি। বর্ণভঙ্গির কারণে অনেক সময় তাঁর শিল্পকে আঁরি মাতিসের ভাবনার সঙ্গে তুলনা করা হলেও তাঁর শিল্প ছিল সম্পূর্ণ নিজস্ব, বাংলাদেশের জীবনযাপনের গভীর শিকড়-নির্ভর।
লোকশিল্প ছিল তাঁর সৃষ্টিশীলতার আরেক প্রধান উৎস। পুতুল, পাখা, হাঁড়ি, শীতলপাটি ও কাঁথার নকশা—গ্রামীণ সংস্কৃতির এসব পরিচিত অনুষঙ্গ নিয়মিত ফিরে এসেছে তাঁর ক্যানভাসে।
তাঁর চিত্রকর্মে বর্গাকার বিন্যাসের ব্যবহার ছিল সুস্পষ্ট, যা তাঁর সরল ও জ্যামিতিক ভাবনার প্রতিফলন।
শিল্পে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন—
১৯৮৬ সালে একুশে পদক
২০১০ সালে সুফিয়া কামাল পদক
২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
তাঁর রং, রেখা ও বিন্যাস বাংলাদেশি শিল্প-ইতিহাসে চিরকাল দীপ্ত হয়ে থাকবে।
খবরওয়ালা/এসএস