খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের বড় ছেলে, মারিয়াস বোর্গ হোইবি, নতুন এক ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ঘটনা ঘটে ধর্ষণ মামলা সংক্রান্ত বিচার শুরুর ঠিক কয়েক দিন আগে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওসলোতে হোইবির বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ওসলো পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ বছর বয়সী হোইবিকে রবিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শারীরিক হামলা, ছুরি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া এবং আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করা। পুলিশ মনে করছে, হোইবি পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ধর্ষণের মামলা, সাবেক সঙ্গীর ওপর পারিবারিক সহিংসতা, এবং একাধিক নারীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
মারিয়াস হোইবির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| বয়স | ২৯ বছর |
| সম্পর্ক | ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎ ছেলে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের বড় ছেলে |
| মোট অভিযোগ | ৩৮টি |
| মূল অভিযোগ | ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক হামলা, নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ, অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ |
| রিমান্ড | চার সপ্তাহ (২ মার্চ পর্যন্ত) |
| বিচার শুরু | ৩ ফেব্রুয়ারি, ৭ সপ্তাহের জন্য ওসলোতে |
হোইবি গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। পুলিশ পুনরায় অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা দেখিয়ে তার জন্য রিমান্ডের আবেদন করেছে। ওসলো জেলা আদালত জানিয়েছে, প্রসিকিউশন বা আদালতের নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে রিমান্ডে রাখা হবে।
এই গ্রেপ্তারির সময় ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত নথির কারণে সমালোচনার মুখে ছিলেন। নথিতে প্রায় এক হাজারবার তার নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
শনিবারে ক্রাউন প্রিন্সেস একটি বিবৃতিতে বলেন, ‘এই নথাগুলো আমার ভুল বিচক্ষণতার প্রমাণ। এপস্টিনের সঙ্গে যেকোনো যোগাযোগের জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত।’
নরওয়ের জনপ্রিয় ট্যাবলয়েড ভিজির সাংবাদিক শাজিয়া মাজিদ বলেন, ‘এই তথ্য প্রকাশ সবচেয়ে খারাপ সময়ে হয়েছে। জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যাপক।’ তিনি আরও বলেন, রাজপরিবার সংকটের মুখে থাকলেও রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চম, রানী সোনজা ও ক্রাউন প্রিন্স হাকন জনগণের পাশে থাকবেন।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নরওয়ের সংসদে রাজতন্ত্র বাতিল করে প্রজাতন্ত্র গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবু আগের তুলনায় সমর্থন বাড়তে পারে। ‘নরওয়ে অ্যাজ আ রিপাবলিক’ সংগঠনের নেতা ক্রেগ আন-স্টকডেল মনে করেন, এপস্টিন ইমেইলগুলো রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়েছে।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে বলেছেন, ‘যাদের নাম নথিতে এসেছে, তাদের উচিত স্বচ্ছভাবে ঘটনা ব্যাখ্যা করা। ক্রাউন প্রিন্সেস নিজেও তার ভুল স্বীকার করেছেন। নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত নয়।’ এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থরবিয়র্ন ইয়াগলান্ডের নামও এসেছে, যদিও তিনি সফর করেননি।