খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে গঠিত একটি ত্রিদেশীয় উদ্যোগে বাংলাদেশকে সক্রিয় করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বেইজিং।
যদিও ঢাকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এটি কোনো জোট নয়, কেবল কর্মকর্তা পর্যায়ের আলোচনা, এবং বাংলাদেশ এখনই এতে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী নয়।
গত ১৯ জুন চীনের কুনমিংয়ে তিন দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের একটি ‘অনানুষ্ঠানিক বৈঠক’ হয়। এরপর গত এক মাসে অন্তত পাঁচবার বিভিন্ন স্তরে আলোচনায় এই উদ্যোগকে সামনে এনেছে চীন। সর্বশেষ ২১ জুলাই ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে সেপ্টেম্বর মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ বৈঠকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন। তবে বাংলাদেশ এখনই এতে অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এর আগে কুয়ালালামপুরে আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকের ফাঁকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই–ও একই আহ্বান জানান। কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ—নেপাল ও শ্রীলঙ্কা—কে বাদ দিয়ে কৌশলগত ত্রিদেশীয় ফোরাম গঠনের প্রস্তাব বাংলাদেশকে দোটানায় ফেলেছে। ফলে রাজনৈতিক সরকারকে পাশ কাটিয়ে এমন উদ্যোগে যুক্ত হওয়াকে কৌশলগত ঝুঁকি মনে করছে ঢাকা।
এদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরে চীন এই উদ্যোগে তাদের অবস্থান জানার চেষ্টাও করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে চীনের আগ্রাসী অবস্থান ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বিবেচনায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
খবরওয়ালা/আশ