খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 25শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১০ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাবনা উপজেলায় তিন দিনের ব্যবধানে চোর সন্দেহে পৃথক ঘটনায় পাঁচ জনকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একজনের একটি চোখ তুলে নেয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে ভুক্তভোগী দুইজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হওয়ায় রাজশাহী ও ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এবিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি এসপি থেকে ওসি বা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পাবনা সদর উপজেলার চর ঘোষপুর এলাকার কাশেম মালিথার ছেলে বাবু মালিথাকে চোর অপবাদ দিয়ে গত ০৬ অক্টোবর মধ্যরাতে ওই এলাকার একটি বাড়িতে বেঁধে রেখে একদল যুবক শারীরিক নির্যাতন করছেন। এসময় তার একটি চোখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তুলে ফেলেন নির্যাতনকারীরা। ভেঙে ফেলেন দুই হাত, দুই পা ও কোমর। শুধু তাই নয় গোপনাঙ্গে ফোটানো হয় অন্তত দশটি সুঁচ।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চোর অপবাদ দিয়ে গত সোমবার (৬ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান চর-ঘোষপুর এলাকার হান্নান সরদার, সালাউদ্দীন সরদার,তুরাব সরদার ও আকাশ হোসেনসহ অন্তত ২০ জন। এসময় শারীরিক নির্যাতনের পর তুলে দেয়া হয় পুলিশের হাতে। পরে পুলিশ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠায়। এ বিষয়ে ১৫ জনকে আসামি করে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সদর থানায়।
এদিকে পরের দিন মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) একই রকম ঘটনা ঘটেছে পাবনার সাথিয়া উপজেলাতেও। সেখানেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া ভিডিওতে দেখা যায় চোর সন্দেহে একজন যুবককে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন ওই অঞ্চলের অজ্ঞাত একদল যুবক। এসময় চোর সন্দেহে ভেঙে ফেলা হয় একটি একটি পা। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অপরদিক জেলার সুজানগর বাজারে একটি দোকানে চুরি করার শাস্তিস্বরূপ তিনজনকে মাথার চুল মাঝখান থেকে ছেটে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যাক্তিরা জানান,দেশের আইন ভাল না থাকায় তারা নিজেরাই চোরের ব্যাবস্থা নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে স্থানীয় সচেতন নাগরিক আহসান হাবিব আকাশ নামের একজন বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে পাবনা জেলায় চোর সন্দেহে অন্তত দশ জন মানুষকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে,যেটি মোটেও কাম্য নয়। একজন ব্যক্তি চুরি করলে তার বিচার আইন অনুযায়ী হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়াটা অপরাধ।’
সিরাজুল ইসলাম জুয়েল নামের একজন বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে চোর অপবাদে একটি পক্ষ সুবিধা আদায় করছে। যাকে তাকে ইচ্ছেমতো মারধর করা হচ্ছে। যে বিষয়টি পাবনাতে চলছে এটি চলতে থাকলে এক সময় এই প্রথা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুতই ব্যাবস্থা নেওয়া উচিত।
এসব বিষয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে রাজী হননি এসপি থেকে ওসি বা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত এক মাসে পাবনায় চোর সন্দেহে অন্তত ১০ জনকে অমানবিক নির্যাতন করেছেন স্থানীয়রা।
খবরওয়ালা/এমইউ