খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হাত-পা নেই জন্ম থেকে, তবু থেমে নেই অদম্য মনিরামপুরের লিতুন জিরা। চোয়াল ও বাহুতে কলম চেপে লিখেই প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম হয়ে এসেছে যশোরের এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরী। এবারের এসএসসি পরীক্ষায়ও করেছে বাজিমাত—বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) যশোর শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশের পর জানা যায় তার এই সাফল্যের কথা। এতে খুশিতে আপ্লুত লিতুনের বাবা-মা, শিক্ষক এবং পরিচিতজনেরা।
লিতুন জিরার জন্ম ২০০৮ সালের ২৫ জুন, যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামে। বাবা কলেজ শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও মা গৃহিণী জাহানারা বেগম। জন্মের সময় সন্তানের হাত-পা না থাকায় পরিবার হতাশ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তার মধ্যে যে মেধা ও সংকল্প ফুটে ওঠে, তা হয়ে ওঠে পরিবারের প্রেরণা।
২০১৪ সালে খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শুরু হয় লিতুনের স্কুল জীবন। প্রথম দিকে বাবা-মায়ের কোলে চেপে যেত স্কুলে, পরে হুইলচেয়ারে করে। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর ভর্তি হয় গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে। অষ্টম শ্রেণিতে আবারও বৃত্তি পায় এবং নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। সেখান থেকেই এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে।
সফলতা প্রসঙ্গে লিতুন জিরা বলে, ‘আমি আশানুরূপ ফল পেয়েছি। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। মা-বাবা ও শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। লেখাপড়া শিখে ডাক্তার হয়ে দেশ সেবায় অংশ নিতে চাই।’
তার বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মেয়ের সাফল্যে আমরা খুব খুশি। আল্লাহ আমাদের কষ্ট সার্থক করেছেন। প্রতি ক্লাসেই সে প্রথম হয়েছে। শুধু লেখাপড়া নয়, রচনা প্রতিযোগিতাসহ জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার এবং স্বর্ণপদক পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে কোনো বোঝা নয়। বরং তাকে নিয়ে আমি গর্ব করি। কারণ তার কৃতিত্বে দেশের মানুষ আমাকে চিনেছে।’
প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ‘লিতুন জিরা অসম্ভব মেধাবী। পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সে খুব দক্ষ। হাত-পা না থাকা সত্ত্বেও চোয়াল ও বাহুতে কলম ধরে যে কেউ সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে—তার অনন্য উদাহরণ লিতুন। আমরা তার এই অর্জনে গর্বিত।’
জীবনযুদ্ধে শারীরিক সীমাবদ্ধতা নয়, লিতুন জিরার সঙ্গী হয়েছে মেধা, অধ্যবসায় আর দৃঢ় মনোবল। তার স্বপ্ন—ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একেকটি ধাপ যেন তার বিজয়ের সাক্ষ্য বহন করছে।
খবরওয়ালা/এন