খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
২৩ জুলাই সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এক তরুণকে মারধরের পর ধরে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছেন, পরে তাকে রিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিডিও ছড়ানোর পর ওই যুবককে নিয়ে অনলাইনজুড়ে শুরু হয় নানা গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচার।
ভিডিওতে মার খাওয়া তরুণের নাম জাকির মাহমুদ হাসান। তিনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাকে নিয়ে কেউ বলছেন, তিনি ছাত্রলীগ করেন; কেউ আবার দাবি করছেন, তিনি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি তার কাছে বোমা পাওয়া গেছে বলেও প্রচার চালানো হয়। তবে এসবের কোনোটাই নিশ্চিত নয়, বরং পুলিশ জানিয়েছে—তাকে আটকের পর বোমার মতো কিছুই মেলেনি।
জাকির মাহমুদ নিজের পরিচয় সম্পর্কে বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্য, ‘আমি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। রাজনীতি করি না। গত বছর আন্দোলনে গুলি খেয়েছি, এবার মার খেয়ে মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হচ্ছি। এটা প্রমাণ করে—প্রতিবাদ করা এখন অপরাধ!’
জাকির বলেন, তার দুই ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পুলিশি হামলায় তারা আহত হলে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে তিনিও পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন। তিনি বলেন, ‘আমার দুই ভাই পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। আমি যখন তাদের নিতে গেলাম, তখন আমাকেও ধরে মেরেছে।’
জাকিরের বিরুদ্ধে যে ‘বোমা’ বহনের অভিযোগ ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশও বলেছে আমার কাছে বোমা পায়নি। অথচ বিভিন্ন পেজ ও মিডিয়া বলছে, আমি বোমা নিয়ে গেছি। আমি তো একটা ব্যাগও বহন করিনি, পকেটে শুধু মোবাইল ছিল।’ পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার সময় সন্দেহজনকভাবে কিছু লোককে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে যাদের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি, তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে জাকিরের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি। কেউ বলছেন, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী, কেউ বলছেন ছাত্রদল কিংবা ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। এই নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। তবে জাকির বলছেন, ‘সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখি। ছবি থাকলেই রাজনীতি করি—এমন নয়।’
ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা তসলিম হাসান অভি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জাকির মাহমুদ একজন প্রতিবাদী, সাহসী ও দেশপ্রেমিক ছাত্র। তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’ হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের এক ছাত্রদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ছেলেটা রহস্যজনক, সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। তবে সে যা-ই করুক, প্রকাশ্যেই করে।’
নিজেকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া গুজব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে জাকির লেখেন, ‘মিডিয়ার কাজ কী—ভাইরাল হেডলাইন বানানো, নাকি সত্য তুলে ধরা? আমাকে নিয়ে যারা “বোমা”, “ছাত্রলীগ” এসব ট্যাগ দিচ্ছে, তারা নিজেরাও জানে না আমি কে। কেউ একজন ভাইরাল ভিডিওতে আমাকে দেখে গল্প বানিয়ে দিয়েছে, আর মিডিয়া সেটাকে চালিয়ে দিচ্ছে।’
খবরওয়ালা/এন