খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলে এমন খুব কম খেলোয়াড় আছেন যারা মাত্র ২২ বছর বয়সেই লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং কিলিয়ান এমবাপের মতো মহাতারকাদের সতীর্থ হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। ডাচ মিডফিল্ডার জাভি সিমন্স তাদেরই একজন। তবে ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় জুড়ে অন্যদের ছায়ায় থাকার পর, উত্তর লন্ডনের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পারে এখন তিনি নিজের একক সাম্রাজ্য গড়ে তুলছেন। ৫ কোটি ১৮ লক্ষ পাউন্ডের বিনিময়ে আরবি লাইপজিগ থেকে আসার পর শুরুর দিকটা অম্লমধুর হলেও, বর্তমানে তিনি প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিভা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গত ১০ জানুয়ারি অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে এফএ কাপের ম্যাচে টটেনহ্যাম যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে মাঠ ছাড়ছিল, গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল দুয়োধ্বনি। সেই মুহূর্তটিই ছিল সিমন্সের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর সন্ধিক্ষণ। বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে ফুটবল পাঠ নিলেও ওইদিন তার খেলায় ফুটে উঠেছিল এক লড়াকু মনোভাব। দ্বিতীয়ার্ধে স্পার্সদের ২-১ হারের ব্যবধান কমাতে না পারলেও, সিমন্স সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি হাল ছাড়ার পাত্র নন।
গত রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-২ ড্র করা ম্যাচেও তিনি ছিলেন দলের প্রাণভোমরা। প্রথমার্ধে যখন দল ২-০ গোলে পিছিয়ে, তখন তরুণ এই মিডফিল্ডারকে দেখা গেছে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান রোমেরোসহ পুরো রক্ষণভাগকে চিৎকার করে নির্দেশ দিতে। এটিই প্রমাণ করে যে বয়স কম হলেও দলের ভেতর তিনি একজন নেতার ভূমিকা পালন করছেন।
অপটা (Opta)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয়টি ম্যাচে সিমন্সের পারফরম্যান্স গ্রাফ অবিশ্বাস্যভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ক্যারিয়ারের শুরুতে মানিয়ে নিতে কষ্ট হলেও এখন তিনি প্রতি ম্যাচেই সুযোগ তৈরি করছেন।
নিচে টটেনহ্যামে তার পরিসংখ্যানের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| সূচক (Metric) | প্রথম ২৩ ম্যাচ (সব প্রতিযোগিতা) | শেষ ৬ ম্যাচ (সব প্রতিযোগিতা) |
| গোলের সুযোগ তৈরি (Chances Created) | ২৪টি | ১৭টি |
| গোল সংখ্যা ও অ্যাসিস্ট | অনিয়মিত | ৩টি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পারফরম্যান্স |
| শটের সংখ্যা (Shots on Target) | গড়পড়তা | লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি |
| উল্লেখযোগ্য জয় | – | ডর্টমুন্ড ও ফ্রাঙ্কফুর্টের বিপক্ষে জয় |
জাভি সিমন্সের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কোচ থমাস ফ্রাঙ্কের কৌশলী পরিবর্তন। ৩-৪-২-১ ফরমেশনে বাম পাশের ‘নাম্বার টেন’ রোলে সিমন্স এখন অনেক বেশি কার্যকর। এছাড়া ইনজুরি কাটিয়ে স্ট্রাইকার ডমিনিক সোলাঙ্কের ফিরে আসা সিমন্সকে একজন প্রথাগত ফরোয়ার্ডের সাথে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে।
মাঠের বাইরেও সিমন্স অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। তার ব্যক্তিগত দলে রয়েছে:
পারফরম্যান্স ট্রেইনার: ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের জন্য।
পুষ্টিবিদ ও শেফ: খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের জন্য।
মাইন্ডসেট কোচ: মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর জন্য।
জিম ইনস্ট্রাক্টর: ব্যক্তিগত শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য।
মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেইমারের সাথে বিজ্ঞাপনে কাজ করা সিমন্স এখন ডাচ জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য (৩২টি ম্যাচ)। তিনি ডাচ, স্প্যানিশ, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চসহ মোট ৭টি ভাষায় কথা বলতে পারেন। টটেনহ্যামের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে যেতে তিনি লেডলি কিং এবং মাইকেল ডসনের মতো ক্লাব কিংবদন্তিদের সাথে স্থানীয় এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এমনকি সম্প্রতি টটেনহ্যামের বিখ্যাত সঙ্গীত ব্যান্ড ‘Chas & Dave’ সম্পর্কে গুগল সার্চ করে ভক্তদের মন জয় করেছেন তিনি।
শনিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগে সিমন্স এখন টটেনহ্যামের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ছায়া কাটিয়ে ওঠা এই সূর্য এখন স্পার্সদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন।